আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাটোয়ায় ভোটাধিকার ফেরাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা ঘিরে সোমবার থেকে সকালে চরম ভোগান্তির ছবি ধরা পড়ল। ভোররাত থেকেই শতাধিক মানুষ মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে। রবিবার ছুটির কারণে আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকায়, সোমবার অফিস খোলার আগেই জমে যায় দীর্ঘ লাইন। অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলির মধ্যে কেউ কেউ প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত মানুষের মধ্যে। বিশৃঙ্খলার জেরে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানা গেছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন, এমনকী ছোট সন্তানদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই, লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের মধ্যে থেকেই উঠে এসেছে। পরিস্থিতি বিচারে মঙ্গলবার থেকে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
লাইনে দাঁড়ানো বহু মানুষের দাবি ছিল, ভুলবশত ৬ এপ্রিলকেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমার শেষ দিন মনে করায় এদিন ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রয়োজনীয় নথি হাতে নিয়ে তাই আগের দিন রাত থেকেই অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। অভিযোগ ওঠে, এত বিপুল ভিড় সামাল দিতে শুরুতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ছিল না। ভোটারদের একাংশের বক্তব্য, একই পরিবারের কারও নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও অন্য সদস্যদের নাম বাদ পড়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। একই নথি থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের নাম আলাদা ভাবে বাতিল হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
যদিও মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু জানিয়েছেন, আবেদন জমার জন্য ছ’টি পৃথক রিসিভিং সেকশন খোলা হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন নজর রাখছে বলেও তিনি জানান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও সিআরপিএফ জওয়ান, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সার্বিকভাবে, ভোটাধিকার ফেরানোর দাবিতে মানুষের এই ভিড় একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলছে, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে, সোমবার রাতে কাটোয়া মহকুমা শাসকের অনির্বাণ বসু মৌখিক জানিয়েছিলেন, মানুষের হয়রানি কমানোর জন্য মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে ট্রাইবুনালের ফর্ম জমা দেওয়ার কাউন্টার খোলা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার সকাল সাতটাতে মানুষের হয়রানি কমাতে সকাল সাতটা থেকে ট্রাইবুনালের আবেদন পত্র জমা নেওয়ার কাউন্টার খুলে দিল কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন।মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে চারটি কাউন্টারে আবেদন পত্র জমা নেওয়ার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনি পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে আবেদপত্র জমা দেওয়ার কাজে সাহায্য করছে। সোমবারের কয়েক হাজার মানুষের লাইনের ভিড় থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মহকুমা প্রশাসন। দশটার পর কাউন্টার খোলা হলে মানুষ হয়রানির মধ্যে পড়েছে সেজন্য এই সিদ্ধান্ত। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সকাল সাতটায় কাউন্টার খুলে দেওয়ায় খুশি। ফলে, জমা দিতে আসা মানুষের বক্তব্য দশটায় কাউন্টার চালু হলে রোদ গরমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। সকাল সাতটায় খুলে যাওয়ায় অনেক আগেই বাড়ি পৌঁছতে পারলে হয়রানি কম হবে।
&t=1800s
















