আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের আগে বুধবার রাতে নওদা বিধানসভার শিবনগর এলাকায় একটি বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনায় এক মহিলা গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
যে এলাকায় বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে তার থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে একটি বুথ রয়েছে। সেখানে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও উপস্থিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতির মধ্যেই বোমাবাজির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়।
মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, "বোমাবাজির ঘটনার সময় ওই এলাকার খুব কাছেই ছিলেন আমাদের দলের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী শাহিনা মমতাজ খান। তিনি কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন।"
তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন, "মঙ্গলবার থেকেই ওই এলাকায় হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মী সমর্থকরা অশান্তি করার চেষ্টা করছেন। আমরা জানতে পেরেছি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দুষ্কৃতীরাই ভোটের আগে এলাকায় অশান্তি এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার জন্য বোমাবাজি করেছে।"
নওদায় বোমাবাজির ঘটনার পর ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় বিশালকে সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা পৌঁছেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে ডোমকলের ঘটনায় 'বিরক্ত' নির্বাচন কমিশন, দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুর্শিদাবাদের বাইশটি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার প্রথম পর্বেই মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভার রায়পুর গ্রামে ভোটারদের 'ভয়' দেখানোর অভিযোগ উঠল শাসক দল, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পরবর্তীকালে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা ওই গ্রামে পৌঁছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ভোটারদেরকে বুথে নিয়ে যান ভোট দেওয়ানোর জন্য।
সূত্রের খবর, ডোমকলের ঘটনায় 'বিরক্ত' নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে মুর্শিদাবাদ প্রশাসনের কাছে। ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে এবছর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে লড়ছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর।
বুধবার গভীর রাতে ডোমকলের রায়পুর গ্রামে বাম কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের একটি সংঘর্ষের ঘটনা হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাতে সংঘর্ষের ঘটনার পরই বাম কর্মী সমর্থকদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, হুমকির মুখে পড়ে গ্রামের প্রচুর ভোটার আজ সকাল আটটা পর্যন্ত বুথে ভোট দিতে যেতে পারেননি। এরপর সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা গ্রামে পৌঁছলে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনের কর্তারা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। এরপর ভোটারদের আশ্বস্ত করে তাঁদের গ্রামের বুথে ভোট দিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভোট দেওয়া শেষ হলে সমস্ত ভোটারদের নিরাপদে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এসডিপিও (ডোমকল) শুভম বাজাজ বলেন,"কালকের ঘটনার পর ওই গ্রামে পুলিশ প্রহরা রয়েছে। সবাই ভোট দিতে পারবেন। কোনও অসুবিধা হবে না।"
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষকে লক্ষ্য করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে মশাড্ডা গ্রামে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিশাল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা ওই এলাকায় পৌঁছেছেন। নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরতপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। যদিও এ'বছর তিনি আর ওই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতীকে হুমায়ুন এ'বছর রেজিনগর এবং নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এ'বছর মূল লড়াই কংগ্রেস-তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থীর মধ্যে।
কংগ্রেসের প্রতীকে ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লড়ছেন আজহারউদ্দিন সিজার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে লড়ছেন মুস্তাফিজুর রহমান সুমন। বুধবার ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পর ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষ মশাড্ডা গ্রামে ১১৫ নম্বর বুথ পরিদর্শনে যান। অভিযোগ সেই সময় অনামিকা ঘোষকে ঘিরে এলাকার কিছু তৃণমূল কর্মী 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন এবং কটুক্তি করেন।
এরপরই অনামিকা ঘোষ ঘুরে দাঁড়ান এবং জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার প্রতিবাদ জানান। বিজেপি প্রার্থী বলেন, "নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধিনিষেধ অমান্য করে ১১৫ নম্বর বুথের সামনে আজ সকাল থেকে প্রচুর তৃণমূল কর্মী দাঁড়িয়েছিলেন। আমি যখন ওই বুথের সামনে যাই তখন আমাকে ঘিরে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হয় এবং অন্য কিছু কটুক্তিও করা হয়।" তবে অনামিকা ঘোষ প্রতিবাদ করার পরই ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।















