আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের নওদা বিধানসভায় 'আক্রান্ত' হলেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। প্রায় দু'ঘণ্টা নওদার শিবনগর এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বসে থাকার পর হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে যখন এলাকা থেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেই সময়ে তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী হুমায়ুন কবীরের কনভয়ে থাকা একাধিক গাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

লাঠি-বাঁশ নিয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে থাকা একাধিক গাড়ির উপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার ঘটনায় হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে থাকা তাঁর দলের কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন। 

 

এলাকায় বিক্ষোভরত তৃণমূল কর্মী সমর্থকদেরকে সরানোর জন্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফ থেকে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয়। হুমায়ুন কবীরকে দীর্ঘক্ষণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারায় তাঁর সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায় রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের। পুলিশ কেন টিয়ার সেল ফাটিয়ে রাস্তা ফাঁকা করছে না, তা জানতে চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুনের নিরাপত্তারক্ষীরা। 

 

এই সময় হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জাওয়ানকে নিজের কোমর থেকে পিস্তল খুলে রাস্তায় ছোটাছুটি করতেও দেখা যায়। 

 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার নওদা বিধানসভার অন্তর্গত ১৭৩ এবং ১৭৪ নম্বর বুথে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এজেন্টদেরকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না এবং সেখানে ছাপ্পা ভোট হচ্ছে এই খবর পেয়ে হুমায়ুন কবীর ওই এলাকায় পৌঁছন। এরপরই হুমায়ুনের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায় নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সফিউজ্জামান শেখের। এরপর ক্রমেই গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মী সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। 

 

এরপর শিবনগরে এলাকায় হুমায়ুন কবীর প্রায় দু'ঘণ্টা পথ অবরোধ করেন। দুপুর বারোটা নাগাদ তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীরা এলাকা থেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তাঁর গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, "নওদা থানার পুলিশ এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকেরা সম্পূর্ণ তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তারক্ষীরা আমার সঙ্গে না থাকলে আমি হয়তো আজ মারা যেতাম।" গোটা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে বলে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন।