আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তাল মালদহ। পরিস্থিতি শান্ত রাখার আর্জি মমতা ব্যানার্জির। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের ছোড়া ইঁটের আঘাতে মাথা ফেটেছে পুলিশের গাড়ির চালকের ।
তথ্য, মালদহের ইংরেজবাজারের যদুপুর এক নাম্বার ব্লক এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। সেই সময় ওই এলাকায় কর্মরত পুলিশকর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের দিকে তেড়ে যান অবরোধকারীরা। তাঁদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন পুলিশের গাড়ির এক চালক। তাঁর মাথায় ইটের আঘাত লাগে। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বুধবার থেকে উত্তাল মালদহ। টানা কয়েক ঘণ্টা পর ঘেরাওমুক্ত হয়েছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জেলার পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তাঁদের মুক্ত করা হয়।
গতকাল রাত ১২টার পর ঘেরাওমুক্ত হন সেখানে আটকে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সুজাপুর বিধানসভার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হল। জানা গিয়েছে, চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির পর অবরোধ তোলেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঘেরাও হওয়া বিচারকদের উদ্ধারের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ করা হয়। এর পর বিচারকদের নিয়ে কনভয় যখন যাচ্ছিল তখন এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারা হয়। তিনি আহত হন বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবারেই, মালদহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের। মালদহের দফায় দফায় বিক্ষোভের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদহ পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদহের ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে জানিয়েছে।
এদিন শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, 'আজ ২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে গতকালের ঘটনাটি জানানো হয়েছে। গতকাল রাতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয়, মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিনজন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। এই ঘেরাও বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে শুরু হয়। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার, কেউই তখন ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। এরপর হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।'
&t=13s
















