আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে এই রাজ্যে বাবরি মসজিদ তৈরি করতে দেবেন না। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী অমিত শাহের এই হুঙ্কারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে এক যোগে চ্যালেঞ্জ করলেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা প্রস্তাবিত মসজিদ ট্রাস্টের প্রাক্তন সদস্য হুমায়ুন কবীর। তাঁর হুঙ্কার ট্রাস্টের ১৩ বিঘা জায়গার উপর যে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে 'লাশ' করে দেওয়া হবে। 

 

বুধবার বাংলা নববর্ষের দুপুরে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, "২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করার পর থেকে বেলডাঙায় আমার প্রস্তাবিত মসজিদ তৈরির কাজে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য যাঁদের কাছ থেকে জমি কিনতে গিয়েছি পুলিশ তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়েছে।"

 

হুমায়ুনের দাবি, এখনও পর্যন্ত তাঁর প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য ৮ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কয়েক লক্ষ ইঁট, বালি, রড, সিমেন্টের বস্তা দান করেছেন। 

 

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনের হুমায়ুন কবীর রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি 'চ্যালেঞ্জ' ছুড়ে দিয়ে বলেন, "এখনও আমার প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ চলছে। আমি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের 'কেয়ারটেকার' মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে চ্যালেঞ্জ করছি। ক্ষমতা থাকলে আমার বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ আটকে দেখাক। আমি বেঁচে থাকতে কারও ক্ষমতা নেই আমার কেনা জমিতে বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ আটকায়।"

 

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তাঁর প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছ থেকে যে অর্থ সাহায্য তিনি পেয়েছিলেন সেই টাকা ইতিমধ্যেই মসজিদের জন্য জমি কিনতে ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ব্যবসার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জন্য যাঁরা দান করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং কয়েকজনের ব্যবসা পর্যন্ত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। 

 

এরপরই হুমায়ুন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে 'চ্যালেঞ্জ' ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "আমি দু'জনকেই চ্যালেঞ্জ করে বলছি তোমাদের কত শক্তি আছে ট্রাস্টের জায়গায়, যেখানে বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে সেখানে, পা দিয়ে দেখাও। জোর করে কেউ সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে এক একজনকে 'লাশ' করে দেব। আমি কবরে যাওয়ার আগে ৫০ টা কবর দেব। ওখানে না হয় বাবরি মসজিদ না হয়ে কবরস্থান হবে।"

 

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনেও হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ধর্মীয় নেতাকে আক্রমণ করে বলেন, "কিছু দাড়িওয়ালা, টুপিওয়ালা লোককে তৃণমূল কংগ্রেস এ'রাজ্যে আমার বিরুদ্ধে নামিয়েছে। যদি আমি ভোটের পরও বেঁচে থাকি এদের জ্যান্ত কবর দেব। দেখব কোন বাপ এদের বাঁচাতে আসে। ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর অভিষেক ব্যানার্জি রাতেই রাজ্য ছেড়ে পালাবে। তারপর এদের তুলে এনে পুঁতবো। "

 

এক আইপ্যাক কর্তার গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, "মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে আমি যদি কোনও অন্যায় কাজ করে থাকি তাহলে আমাকে গ্রেপ্তার করে দেখাক। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে আমি নাকি কোটি কোটি টাকা নিয়েছি। তাহলে কোথায় সেই টাকা রেখেছি। গোয়েন্দারা কি ফেল করে গেল? হিম্মত থাকলে ইডি, নির্বাচন কমিশন বা মমতা ব্যানার্জি আমার গায়ে হাত দিক। প্রমাণ করে দেখাক আমি অন্যায় কাজ করেছি, আমাকে তুলে নিয়ে যাক। কিন্তু এরপর প্রতীক জৈন এবং তাঁর স্ত্রীও গ্রেপ্তার হবেন।"

 

এরপর ফের রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে হুমায়ুন কবীর আরও এক দফা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "আমি কারও খেয়ে বসে নেই। আমি যতদিন বেঁচে আছি মমতা ব্যানার্জিকে আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে হবে না। আমার চ্যালেঞ্জ থাকলো।"

 

বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গে ফেরত গিয়ে হুমায়ুন বলেন, "মসজিদ তৈরির জন্য যাঁরা টাকা দান করেছেন, তাঁরা টাকা চাইলে ফেরত দিয়ে দেব। তবে এই মসজিদ যদি কেউ ভাঙতে আসে তাহলে তাদের জানিয়ে রাখি আমারও বাহিনী আছে। দরকারে আরও ৫ বিঘা জায়গা কিনব। তারপর সেখানে সবার সমাধিস্থল করে আমিও নিজেও কবরে চলে যাব।"