আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগেই সাসপেন্ড হয়েছিলেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল থানায়। সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। 

খণ্ডঘোষ বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার তথা বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা শাসক শুক্রবার জয়েন্ট বিডিওর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় ফের নতুন করে শুরু হয়েছে শাসক বিরোধী তরজা। 

তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ ও ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলার প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে জয়েন্ট বিডিওর ফেসবুক থেকে একটি আপত্তিকর পোস্ট করা হয়। তাতে এসআইআর নিয়েও সমালোচনা করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। 

কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি কমিশনের তরফে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই মহকুমা শাসক জয়েন্ট বিডিওর বিরুদ্ধে খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের কপি এডিএম(ইলেকশন) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে পাঠানো হয়। 

 

বিজেপি নেতা রামানন্দ মজুমদার বলেন, প্রশাসনের এক শ্রেণির আধিকারিক ও কর্মীরা শাসকের দলদাসে পরিণত হয়েছে। এটা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই যে কমিশন চলছে আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এখন বারে বারে তার প্রমাণ সামনে আসছে। 

দিন কয়েক আগেই হাঁসখালির বিডিও ও বর্ধমানের খণ্ডঘোষের যুগ্ম বিডিওকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে জানিয়েছে কমিশন। খণ্ডঘোষের যুগ্ম বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকে বরখাস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

কমিশন সূত্রে খবর, একাধিক নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, সরকারি পদে থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও শাসকদলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন জ্যোৎস্না। তাই তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ। জ্যোৎস্নার শূন্যপদে নতুন নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যেকে। এই নিয়ে দ্বিতীয় বিডিওকে বরখাস্ত করল কমিশন।