আজকাল ওয়েবডেস্ক: মান-অভিমান ভুলে একমঞ্চে ‘অভিভাবক' অসিত ও 'সন্তান’ দেবাংশু। চুঁচুড়ায় আসিতের আশীর্বাদ নিলেন দেবাংশু , গলল বরফ। রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকলেও পারিবারিক স্নেহের বন্ধন যে অটুট, তার প্রমাণ মিলল চুঁচুড়ায়। টিকিট না পেয়ে গত কয়েকদিন ধরে দলের ওপর যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক আসিত মজুমদার, বুধবার তাতে ইতি পড়ল। এদিন প্রচারের মাঝেই আসিতবাবুর বাড়িতে পৌঁছে যান তৃণমূলের তরুণ তুর্কি তথা এই কেন্দ্রের নতুন প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। দীর্ঘ আলোচনার পর দীর্ঘদিনের ‘অভিমান’ ধুয়ে মুছে গিয়ে তৈরি হলো এক নতুন রসায়ন।
এদিন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকে আসিত মজুমদারের গলায় যে সুর শোনা গিয়েছিল, এদিন তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। দেবাংশুকে পাশে নিয়ে বর্ষীয়ান এই নেতা জানান, "দেবাংশু আমার সন্তানের মতো। ও অনুরোধ করেছে, তাই ওর পাশে আমি আছি।" শুধু তাই নয়, আসিতবাবু স্পষ্ট করে দেন যে মমতা ব্যানার্জিকে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যপূরণে তিনি দেবাংশুর হয়ে জান লড়িয়ে দেবেন।
&t=1sঅন্যদিকে, বড় দাদার থেকে আশীর্বাদ নিয়ে আপ্লুত দেবাংশু বলেন, "মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি যেমন আমাদের মাথার ওপরে আছেন, চুঁচুড়ায় আমাদের অভিভাবক হলেন আসিতদা। দাদাকে ছাড়া আমি এখানে এক পা-ও চলতে পারব না। গত কয়েকদিন উনি যা বলেছেন, তা আদতে অভিমান থেকেই বলেছেন, আর সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।" এদিন দুজনেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাঁদের একসঙ্গে প্রচারে দেখা যাবে।
তবে দলেরই কিছু কর্মীর সোশ্যাল মিডিয়ায় আসিত মজুমদারকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্যের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক। তিনি সাফ জানান, "যারা তৃণমূল করে তারা কখনও দলের নেতার বিরুদ্ধে এসব লিখবে না। এরা আসলে বিজেপির দালাল, টাকা খেয়ে এসব করছে। এরা তৃণমূলের ভালো চায় না, সর্বনাশ চায়। এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা আমি দেবাংশুকে জানিয়ে দিয়েছি।"
চুঁচুড়ার এই ‘হেভিওয়েট’ সাক্ষাতে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। টিকিট বদল নিয়ে যে আদি-নব্য দ্বন্দ্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, অভিভাবক-সন্তানের এই উষ্ণ আলিঙ্গন সেই বরফ অনেকটাই গলিয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
