আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে আচমকাই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন এক বুথ লেভেল অফিসার। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কালনায়।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম পিন্টু সেনগুপ্ত। জানা গিয়েছে, কালনা মহকুমা শাসকের দপ্তরে নির্বাচনের কাজ করার সময় হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সহকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সহকর্মীদের দাবি, প্রচণ্ড গরম ও অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েন পিন্টু। প্রথমে শরীর খারাপ লাগায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন তিনি।
কিন্তু পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে, কাজের চাপে, মানসিক চাপে বহু মানুষের, বিএলও'দের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে অতিরিক্ত কাজের চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ব্যক্তি।
চাঁচল ২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নাওদা পাড়ার ৯৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা উৎপল থোকদার। তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
গোটা ঘটনায় পরিবার কাঠগড়ায় তুলছে এসআইআর প্রক্রিয়াকেই। অভিযোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই এই উৎপলের এই পরিণতি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, উৎপল যে এলাকার বিএলও ছিলেন, সেখানকার বহু মানুষের নাম বিচারাধীন।
তিনি আশঙ্কা করছিলেন, যদি তিনি সবকিছু সঠিকভাবে সমাধান করতে না পারেন, তাহলে কী হবে? এলাকার মানুষ কী ভাববেন, পরিণতি কী হবে? পরিবারের অভিযোগ সর্বক্ষণ এই চিন্তার মধ্যে থেকে, মানসিক চাপের কারণেই তাঁর এই পরিণতি।
এর আগে, জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, বিএলও শ্রবন কুমার কাহারের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। জানা যায়, সেবকের করোনেশন ব্রিজ থেকে তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।
পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপই দায়ী। অন্যদিকে, ইংরেজবাজার পুর এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৩ নম্বর বুথে বিএলও’র দায়িত্বে থাকা সম্পৃতা চৌধুরী সান্যালের মৃত্যুতেও একই অভিযোগ উঠেছিল।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরুর পর থেকেই নানা প্রান্তে আতঙ্কে, ভয়ে, চিন্তায় মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ‘কাজের চাপে’ মৃত্যু হয় পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদার।
দিনকয়েক পরে জলপাইগুড়িতে এক বিএলও মারা যান। অভিযোগ, কাজের চাপে আত্মঘাতী হন ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা–বাগান এলাকার বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও।
এর পরে ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হন এক বিএলও। নাম রিঙ্কু তরফদার। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
তার পরে মুর্শিদাবাদে হৃরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাকির হোসেন নামে এক বিএলও। গত ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডল নামে এক বিএলও–র আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। দিন কয়েক পর, মৃত্যু হয় কোচবিহারের আশিসের। বহু মৃত্যুতে বারবার সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল।















