আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত বিজেপির তৃতীয় তালিকায় সবথেকে বড় চমক—আর জি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। পানিহাটি আসন থেকে তাঁকেই লড়াইয়ের ময়দানে নামাল গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, তিলোত্তমা বা ‘অভয়া’ কাণ্ডের বিচার এবং মানুষের আবেগকে হাতিয়ার করেই এই আসনে জয় নিশ্চিত করতে চাইছে বিজেপি।
গত সপ্তাহেই নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে রত্না দেবনাথ ঘোষণা করেছিলেন যে, মেয়ের সুবিচার ছিনিয়ে আনতে তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে লড়তে চান। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব—এমনটাই বিশ্বাস তাঁর। যদিও অভয়ার মাকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দলের একাংশের মতে, নির্যাতিতার পরিবারের রাজনীতিতে আসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ধরনের সমালোচনা শুরু হয়েছে, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব সরিয়ে শেষ পর্যন্ত রত্না দেবনাথের ওপরেই ভরসা রাখল দল।
এই খবর সামনে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "উনি বিজেপির ফাঁদে পা দিয়ে দ্বিচারিতা করলেন। পুলিশ তো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীকে গ্রেপ্তার করেছিল। আপনারাই সিবিআই চেয়েছিলেন, এখন সেই সিবিআই-ই তো বিচার দিচ্ছে না।" তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, হাথরাস বা উন্নাওয়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নির্যাতিতাদের পাশে দাঁড়ায়নি। কুণালের প্রশ্ন, "মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে আপনি সেই দলেরই প্রার্থী হতে যাচ্ছেন যারা ধর্ষকদের মালা দিয়ে স্বাগত জানায়?"
প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর রত্না দেবনাথ আবেগঘন কণ্ঠে জানান, "আমি জিতলে পানিহাটি জিতবে। আমি চাই মানুষ আমাকে নিজের ঘরের মেয়ে মনে করে পাশে দাঁড়ান।" তাঁর বিশ্বাস, বিধানসভায় পৌঁছে নারী সুরক্ষার বিষয়ে কাজ করতে পারলে তাঁর মেয়ের আত্মাও শান্তি পাবে। তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
দিল্লির নির্ভয়ার মা রাজনীতির হাতছানি উপেক্ষা করলেও, অভয়ার মায়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে মেয়ের মৃত্যুকে হাতিয়ার করে রাজনীতিতে নামার বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না নেটিজেনদের একাংশ। সিপিএম-এর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে রত্না দেবী জানিয়েছেন, বামেরা তাঁদের নিয়ে কেবল রাজনীতি করেছে, কাজের কাজ কিছু হয়নি।
সব মিলিয়ে, পানিহাটি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে মেয়ের বিচার পাওয়ার লড়াই, আর অন্যদিকে রাজনীতির ময়দান—অভয়ার মা এই দুইয়ের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করেন, এখন সেটাই দেখার।















