আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নির্বাচনী প্রচারে বার হয়ে এবার নিজের খাসতালুক বহরমপুর শহরে ‘‌আক্রান্ত’‌ হলেন পাঁচবারের বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা এবছর বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। শনিবার সকালে বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচার সারার সময় অধীর চৌধুরী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কংগ্রেস কর্মীদের ‘‌হেনস্থা’‌ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই গোটা ঘটনায় অভিযোগের আঙুল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। 

অভিযোগ উঠেছে বহরমপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকারের নেতৃত্বে কিছু তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক,অধীর চৌধুরী যখন মিছিল নিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে হেনস্থা করে। যদিও বড় কোনও ঘটনা ঘটার আগে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাবাহিনীর লোকজন তাঁকে ওই এলাকা থেকে বার করে আনেন। তবে মিছিলের শেষে থাকা কিছু কংগ্রেস কর্মী সমর্থককে ‘‌ধাক্কাধাক্কি’‌ করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। 


প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। এর প্রায় ৩০ বছর পর ফের একবার তিনি কংগ্রেসের প্রতীকে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবছর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বহরমপুর কেন্দ্রে অধীর চৌধুরীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি এবং বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক তথা এবছরও ওই কেন্দ্রের প্রার্থী সুব্রত মৈত্র।

এআইসিসি–র তরফ থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে অধীর চৌধুরীর নাম ঘোষণা করার পরই জোর কদমে তিনি বহরমপুর শহরে প্রচার শুরু করেছেন। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত তাঁকে কর্মী বৈঠক, পদযাত্রা করে নির্বাচনী প্রচার সারতে দেখা যাচ্ছে। 

শনিবার সকালে বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার করার সময় একদল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক হঠাৎই অধীর চৌধুরীর মিছিল ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং ‘‌গো ব্যাক অধীর চৌধুরী’‌ স্লোগান দেন। অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা এই বিক্ষোভের প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বচসা এবং হাতাহাতি বেঁধে যায়। 

এই ঘটনার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে কিছু লোক অধীর চৌধুরীকে ‘‌ধাক্কাধাক্কি’‌ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা কোনওক্রমে অধীর চৌধুরীকে ওই এলাকা থেকে বার করে দেন। 

এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একটি বিশেষ জন্তুর বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‌জন্তুর বাচ্চারা এর বেশি আর কী করবে? তবে আমাদের কোনও কর্মীদেরকে মারধর করার ক্ষমতা ওদের নেই। কিছু কংগ্রেস কর্মীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে।’‌ 

অন্যদিকে গোটা বিষয়টিকে লঘু করে দেখিয়ে বহরমপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার বলেন, ‘‌একটি সরু গলি দিয়ে মিছিলটি যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় আমাদের দলের কর্মীরা ওই গলি দিয়ে তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জির সমর্থনে একটি মিছিল করছিল। দু’‌টি মিছিল সামনাসামনি চলে আসায় ছোটখাটো একটি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।’‌ অন্যদিকে অপর একটি ঘটনায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘‌হুমকি’‌ দেওয়ার অভিযোগে বহরমপুর পুরসভা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের এক ওয়ার্ড সভাপতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে রাজু মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘‌হুমকি’‌ দিচ্ছিলেন এবং তাঁদেরকে তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। 

‘‌হুমকি’‌ দিয়ে ভোট প্রচারের সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।