আজকাল ওয়েবডেস্ক: পানিহাটিতে ভোটের দিন ইভিএম ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হল। অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুর এলাকার একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বিজেপি প্রতীকের বোতামে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০৯ নম্বর বুথে। এই অভিযোগ ঘিরেই মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ চলছিল। ভোটারদের লাইনও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু কিছু সময় পরেই কয়েকজন ভোটার অভিযোগ করেন, তাঁরা বিজেপি প্রতীকের বোতাম টিপতে গেলে সেখানে আগে থেকেই কালি লেগে রয়েছে। ফলে বোতামটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। এই অভিযোগ সামনে আসতেই বুথের ভিতরে ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের প্রতীকের বোতাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সেই প্রতীকে ভোট দিতে না পারেন। দলের কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত বুথের সামনে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়। তাঁদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার এবং ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয় এবং বুথের ভিতরে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা ইভিএম পরীক্ষা করে দেখেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, মেশিনে কোনও কারিগরি ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিকল্প ইভিএম ব্যবহারের কথাও বিবেচনা করা হয়। এই ঘটনার জেরে প্রায় কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। বাইরে অপেক্ষরত ভোটারদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ করে ভোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যদি কোনও অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন এই ধরনের ঘটনা নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পানিহাটির এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর, আর সাধারণ ভোটারদের একাংশের মনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তবে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।















