আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অব্যাহত নির্বাচন কমিশনের। সোমবারই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারকের দপ্তরের চার আধিকারিককে এবং এক ডেপুটি সিইওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার হাঁসখালির বিডিওকে বরখাস্ত করল কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি চিঠি লিখেছে কমিশন।
মঙ্গলবার মুখ্যসচিবকে লেখা ওই চিঠিতে হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সচিবের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গত ২৭ মার্চ নদিয়া জেলার হাঁসখালি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশন (গার্লস অ্যান্ড কো-এড) স্কুলে প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে সৈকত চ্যাটার্জী নামক একজন শিক্ষক মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং রানাঘাট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
চিঠিতে এই ঘটনার জন্য হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তনকে দায়ী করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রোটোকল বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন সায়ন্তন। কমিশনের আরও অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতার কারণে সৃষ্ট এই ঘটনার ফলে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য কমিশনের প্রচেষ্টা কলঙ্কিত হয়েছে।
কমিশন রাজ্যকে জানিয়েছে, সায়ন্তনের এই ধরণের ত্রুটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। হাঁসখালির বিডিও-কে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
অন্যদিকে, একদিনে রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছিল কমিশন। সোমবার এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করে তৃণমূল। মঙ্গলবার মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ সরকারি আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি আদালত। সোমবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছিল তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, শ্রেয়া পান্ডে এবং শান্তনু সেন। বৈঠক সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আধিকারিকদের বদলি এবং অপসারণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন অভিষেক। এরপরের দিনই ফের এক সরকারি আধিকারিককে বরখাস্ত করল কমিশন।














