আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের পর বিজেপিকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বীরভূমের বেতাজ বাদশা চাঁচাছোলা ও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি ভারতীয় জনতা পার্টি সত্যিই ২০০টি আসন পায়, তাহলে তিনি নিজের মাথার একদিক কামিয়ে গোটা বোলপুর ঘুরবেন। 

এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রসঙ্গত, প্রথম দফা ভোটে তৃণমূল পাবে ১৩০ টা আসন। তাঁর সেই বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে।

এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন অনুব্রত। তিনি এদিন দাবি করেন, এবারের ভোটে নজিরবিহীন ভোটের হার দেখা গেছে। তাঁর কথায়, তিনি জীবনে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ ভোট পড়তে দেখেননি, যা এবার হয়েছে।

সাধারণত ১০ শতাংশ ভোট পড়ে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু এবার সেই অংশের ভোটও পড়েছে বলে দাবি করেছেন কেষ্ট। পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাইরে থাকা বহু মানুষও ভোট দিতে ফিরে এসেছেন রাজ্যে।

এটাকে শাসকদলের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলেই দাবি করেছেন তিনি। অনুব্রত আরও দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনের উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ ভোটদানে উৎসাহিত হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার কাজ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিশেষ করে মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি।’

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসআইআরে নাম যাতে থাকতে সেই চিন্তা থেকেই এবার সব শ্রেণীর মানুষ ভোট দিয়েছে। তাই নির্বাচনের পর বাংলা থেকে বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।’

ভোটের ফলাফল নিয়ে নিজের পূর্বাভাসও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, প্রথম দফাতেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১৩০টি আসন পাবে এবং গোটা নির্বাচনে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৪০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এমনকী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৫০ আসন পাবে তৃণমূল কংগ্রেস এই ইঙ্গিতও দেন কেষ্ট। অন্যদিকে, বিজেপির আসন সংখ্যা ১৫ থেকে ২০-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

বিজেপির ২০০ আসনের দাবিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং প্রোপাগান্ডা বলেও জানান তিনি। এদিন, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, ‘দিলীপ ঘোষ খুব ভাল বক্তব্য রাখেন। কিন্তু তিনি বাস্তবে স্বপ্ন দেখছেন, স্বপ্ন সত্যি হয় না।’

পাশাপাশি, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজ্যে বারংবার আগমন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাঁরা আসতেই পারেন। কিন্তু বাংলার মানুষের জন্য তাঁরা কী করেছেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ বাংলার মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান।’

নিজের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসও তুলে ধরেছেন অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূম জেলার বিভিন্ন আসনে তৃণমূলের বড় ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, নলহাটি থেকে সর্বোচ্চ ভোটে জিতবেন।

পাশাপাশি ময়ূরেশ্বর, সাঁইথিয়া, বোলপুর ও সিউড়ি, সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য লিডের দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের কিছু নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও অনুব্রত স্পষ্ট করেন, এই ‘হয়রানির’ জবাব মানুষ ব্যালট বাক্সেই দেবে। তাঁর দাবি, বাংলা কখনও অপমান সহ্য করে না।