আজকাল ওয়েবডেস্ক: সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তার কিছুদিন পরেই প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজকে এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে সিআইএসএফের জওয়ানদের।
সম্প্রতি দিল্লিতে লিয়েন্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামনেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দেশের প্রাক্তন টেনিস তারকাকে বিশেষ নিরাপত্তা দিল বিজেপি।
৫২ বছর বয়সী পেজ বিজেপিতে যোগ দিয়ে জানান, তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুধুমাত্র রাজনীতিতে ঘটা করে যোগ দেওয়া নয়, বরং দেশের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, এর আগে লিয়েন্ডার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিজেপিতে যোগদানকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষত আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
ক্রীড়াজগতে সাফল্য এবং জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পেজ বাংলায় নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হতে পারেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
শনিবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে লিয়েন্ডার বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনেছেন। আমি তাঁকে বলেছি, আমি বাংলাকে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ বানাতে চাই না, বাংলার যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চাই, যাতে ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্য বা দেশে চলে না যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯০০ সালে নরম্যান প্রিচার্ড কলকাতায় জন্ম নিয়ে অলিম্পিকে অংশ নেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র চারজন অলিম্পিক পদক জিতেছেন। আমরা কী করছি নতুন প্রজন্মের জন্য? আমরা অন্য খেলাগুলোর জন্য কী করছি? বাংলায় অলিম্পিক স্পোর্টসের জন্য আমরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি? এখানে একটি স্থায়ী ইনডোর টেনিস কোর্টও নেই। বর্ষা আর গরমে ছয়-সাত মাস খেলাই সম্ভব হয় না।’
তাঁর দাবি, ‘আমি চাই বাংলায় স্পোর্টস, স্পোর্টস এডুকেশন, ইন্ডাস্ট্রি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে উঠুক। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। আমি সেই ভিশনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত এবং দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।’
প্রাক্তন টেনিস তারকা জানান, ‘মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং, মহিন্দ্রা, কাস্টমস এই শহরের ঐতিহ্য অপরিসীম। আমার মা-বাবা ভারতের হয়ে খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল, একদিন দেশের জন্য খেলব। এবার সেই পরিশ্রম আমি যুবদের পিছনেও করতে চাই।’
গত ২৪ মার্চ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন যখন কলকাতায় এসেছিলেন, সেই সময়ে লিয়েন্ডার সাক্ষাৎ করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। তারপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল লিয়েন্ডারকে নিয়ে।
কবে তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা নিয়ে চলছিল চর্চা। সেই জল্পনার অবসান ঘটল মঙ্গলবার। লিয়েন্ডার শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন টেনিস তারকা নন। তিনি হয়ে ওঠেন এক অনুভবের প্রতীক।
টেনিস কোর্টে তাঁর প্রতিটি লড়াই হয়ে ওঠে সমষ্টির বহিঃপ্রকাশ। কে ভুলতে পারেন ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিক থেকে তাঁর ব্রোঞ্জ আনার আখ্যান। জাতীয় পতাকার নীচে লিয়েন্ডারই শিখিয়েছেন, জয় কেবল স্কোরবোর্ডেই খোদিত থাকে না। তা লেখা হয় মানুষের মনে। সেই জয়ের রেশ থেকে যায় চিরকাল।
এর আগে কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করেন লি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। যদিও সে সময়ে বিজেপির রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ নিয়ে মুখ খোলেনি।
নিউটাউনের যে হোটেলে নীতিন ছিলেন, সেই হোটেলে গিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। সাক্ষাৎ হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে। ওই হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়েই বেশ কয়েক জন বিজেপি নেতার সঙ্গে লিয়েন্ডারকে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। তার পর থেকেই লিয়েন্ডারকে নিয়ে শুরু হয়ে যায় চর্চা।
















