আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুঠো ফোনে দুনিয়া মুঠোতে, সেই মুঠো ফোন দিয়েই, মুঠোয় ধরা দুনিয়ায় বার্তা ছড়িয়ে দিতে নয়া পন্থা। তাই, কেবল পথে নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের আগে, একদিকে যেমন রাস্তায় স্লোগান, পোস্টার, তেমনই পোস্টার সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে। তাতে কেবল প্রার্থীদের প্রচারের ছবিই তুলে ধরা হচ্ছে না, বরং সুকৌশলে এক টিম তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। একেবারে ঢুকে পড়ছে ট্রেন্ডিং, হ্যাশট্যাগ, টাইমলাইন স্টোরির মধ্যে, এক কথায় বলা যেতে পারে, ঢুকে পড়ছে বাসে-ট্রেনে-ট্রামে, জেন-জিদের মধ্যেও। ফলে যাঁরা রাস্তার প্রচারে পা মেলাচ্ছেন না, কিংবা বন্ধ জানালার ওদিক থেকে শুনতে পাচ্ছেন না রাজনৈতিক দলগুলির বার্তা, তাদের চোখের সামনে পৌঁছচ্ছে তৃণমূলের ডিজিটাল যোদ্ধারা। সমীক্ষা বলছে, ভোটের মুখে, এক দলকে দায়িত্ব দিয়ে এই কাজ করানো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে। সমাজ মাধ্যমে অ্যাক্টিভিটি বাড়াতেই অভিষেক ব্যানার্জির উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’। ভোটের মুখে তারাই সম্মেলন করছে বাংলার পাঁচটি জেলা জুড়ে।
২০২৫ সালের ১৬ই অক্টোবর, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি এই কৌশলকে বাস্তবে রূপ দেন। চলতি বছরের ১২ই জানুয়ারি কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গনে 'আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা' সম্মেলন আয়োজিত হয়, আইটি সেলের সদস্য, ছাত্রনেতা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং দলীয় কর্মকর্তাদের সেদিনই একপ্রকার বার্তা দেওয়া হয়েছিল, ভোটের মুখে, ঠিক কোন গুরুদায়িত্ব তাঁদের কাঁধে। এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব এবং চ্যাটজিপিটি, গ্রোক ও জেমিনির মতো এআই টুলের উপর প্রশিক্ষণ সেশনও হয়।
ভোটের মুখে, পাঁচ জেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সম্মেলন হচ্ছে। ২৮শে মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সম্মেলন হয়। এআইটিসি আইটি সেলের সাধারণ সম্পাদক উপাসনা চৌধুরীর উদ্যোগে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। চার বিধানসভা কেন্দ্রকে মিলিয়ে হাওড়ায় সম্মেলন করে ফেলেছে তারা। তাছাড়া দুই বর্ধমান, এবং উত্তর চব্বিশ পরগনাতেও সম্মেলন করেছে ডিজিটাল যোদ্ধারা। মূলত কীভাবে কাজ করতে হবে, কেবল সেই বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, বদলে, কাজের কারণ কী যেমন বোঝানো হচ্ছে না, শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে পদ্ধতিও। কেউ দলের হয়ে ভিডিও করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ বোঝাচ্ছেন, কেন তাঁর সমর্থন করা দল, অন্য দলের থেকে ভাল। তৃণমূলের নেতাদের মতে, এই ডিজিটাল যোদ্ধাদের হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস ঢুকে পড়ছে জেন-জি'দের ভাবনার মধ্যে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে এটাই ইউএসপি।

তৃণমূলের আইটি সেলের রাজ্যের জেনারেল সেক্রেটারি উপাসনা চৌধুরী বলছেন, 'বিষয়টা আমাদের কাছে আসলে তৃণমূলের ডিজিটাল যোদ্ধা নয়, বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা। আমরা বাংলার কথা পোঁছে দিতে চাইছি, দিচ্ছি। একই সঙ্গে বিরোধীরা যে মিথ্যাচার করছে, সেগুলোকে কাউন্টার করছি। অন্ধকারের কাউন্টার তো অন্ধকার দিয়ে হয় না। তাই বাংলার গৌরব, উন্নয়ন আমাদের হাতিয়ার। আর এখন কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ইনফুলেন্সার এই টার্ম, বিষয়গুলো আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। আমরাও তাই ফোনের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে যেতে চাইছি পৃথিবীর কাছে, মুঠো ফোনে এখন গোটা পৃথিবী মুঠোর মধ্যে, আমরা ধীরে ধীরে ভাবনার মধ্যে, চেতনার মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছি বাংলার উন্নয়নের কথা।'
কিন্তু ভোটের প্রচার কীভাবে?
উপাসনা বলছেন, 'বিধানসভার প্রার্থীরা যাঁদের কাছে পৌঁছে যেতে পারছেন না পায়ে হেঁটে, পৌঁছে দিচ্ছি আমরা। সঙ্গে আমরা তুলে ধরছে এই জমানার কাজের খতিয়ান, উন্নয়ন। একইসঙ্গে, এতদিন যাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করেছেন এসব, তাঁদের সেই অর্থে পরিচিতি মেলেনি, মমতা ব্যানার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি তাঁদের সেই সম্মানটা দিচ্ছেন।'















