আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে রবিবাসরীয় প্রচারে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর হাওড়ার বামুনগাছি এলাকা। বিজেপি প্রার্থী উমেশ রায়ের সমর্থনে অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণের মিছিল ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক উত্তেজনা।
তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। দুই দলের একে অপরকে লক্ষ্য করে একটানা স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মৃদু লাঠিচার্জে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিন উত্তর হাওড়ার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বামুনগাছি এলাকায় বিজেপি প্রার্থী উমেশ রায়ের সমর্থনে প্রচারে আসেন অভিনেতা রবি কিষাণ। অভিযোগ, মিছিলটি একটি তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল।
ঠিক সেই সময়েই পার্টি অফিসের ভিতর থেকে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক রবি কিষাণ’ স্লোগান দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি।
উত্তেজনা সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনী মৃদু লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের কর্মীরাই জওয়ানদের ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ।
বিজেপি প্রার্থী উমেশ রায়ের দাবি, তৃণমূল কর্মীরাই প্রথম উত্তেজনায় প্ররোচনা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের পতাকা নিয়ে আমাদের মিছিলে চড়াও হয় ওরা। আমরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের কর্মীদের ধরে মারধর করা হয়েছে। তৃণমূলের অভ্যাসই হল মিথ্যে প্রচার করা এবং রাতের অন্ধকারে মদ্যপান করে বিজেপির ঝান্ডা ছেঁড়া।’
উমেশ রায় আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, এই হামলায় জড়িত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করলে আগামী দিনে থানা ঘেরাও করবে বিজেপি। অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতা অরবিন্দ দাস একে বিজেপির ‘পূর্ব পরিকল্পিত নাটক’ বলে তকমা দিয়েছেন।
তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘সাত নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি হারবে জেনেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। আমাদের কর্মীরা শান্তভাবে পার্টি অফিসে বসেছিল।
বিজেপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে ঢুকে কর্মীদের মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।’ তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগে রবিবারের এই হাই-ভোল্টেজ প্রচারে রবি কিষাণের উপস্থিতি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা বাড়ালেও, শেষ পর্যন্ত গিয়ে তা সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। এলাকা আপাতত থমথমে।
পুলিশ মোতায়েন থাকলেও রাজনৈতিক বাদানুবাদ চলছেই। এখন দেখার, এই ‘বামুনগাছি কাণ্ড’ উত্তর হাওড়ার ভোটের বাক্সে কার দিকে পাল্লা ভারী করে।















