আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন বহরমপুর বিধানসভার অন্তর্গত কুঞ্জঘাটা এলাকায় ১ নম্বর বুথের কাছে একটি জায়গায় অধীর চৌধুরীকে কিছু খাবার দেওয়া এবং 'ক্লান্ত' অধীর চৌধুরীর জন্য পাখার ব্যবস্থা করায় একটি পরিবারের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শনিবার গভীর রাতে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে কুঞ্জঘাটা এলাকায়। 

 

হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ওই পরিবারের দুই পুরুষ সহ এক মহিলা সদস্যকে রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁদের মাথা এবং শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। রাতেই ওই পরিবারের দুই সদস্যের মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছে। 

 

হামলার এই ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহরমপুর টাউন যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পাপাই ঘোষ সহ তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে বহরমপুর থানায় পাপাই ঘোষ সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা শুরু করেছে। 

 

বহরমপুরের বাসিন্দা 'অরাজনৈতিক' একটি পরিবারের উপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় পৌঁছে যান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। সেখানে গিয়ে তিনি পুলিশ-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে বাড়িতে লাঠি-বল্লম মজুত রেখে 'পাল্টা আক্রমণে' যাওয়ার জন্য বহরমপুরবাসীকে প্রস্তুত থাকার আবেদন করেন। 

 

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন বহরমপুর পুরসভার অন্তর্গত কুঞ্জঘাটা এলাকায় ১ নম্বর বুথে ভোটদান প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্লথ গতিতে চলছে, এমনই অভিযোগ পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী সেখানে পৌঁছে যান। ভোটের দিন ওই বুথে কমপক্ষে চারবার ইভিএম পরিবর্তন করতে হওয়ায় ভোটদান প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্লথ গতিতে চলছিল। এরপরই ওই বুথের কাছে পৌঁছে অধীর চৌধুরী নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন সেখানে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যাতে কিছুটা ত্বরান্বিত করা যায় তা সুনিশ্চিত করার জন্য। 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটারদের অসুবিধা না করে ওই দিন অধীর চৌধুরী স্থানীয় একটি মন্দিরের সিড়ির উপর বসে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। সেই সময় 'সৌজন্যের' খাতিরে স্থানীয় একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য অধীর চৌধুরীর জন্য জল, কিছু খাবার এবং একটি পাখার ব্যবস্থা করেন। অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে ওই এলাকায় বেশি 'খাতির' করার অপরাধে ওই পরিবারের উপর শনিবার গভীর রাতে হামলা করা হয়। 

 

হামলার ঘটনায় মহাদেব ঘোষ, সমীত ঘোষ এবং অশোকা ঘোষ নামে তিনজনের গুরুতর আঘাত লাগে। এর পাশাপাশি ওই পরিবারের এক সদস্যের কাছ থেকে নগদ প্রায় আড়াই হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। 

 

ওই পরিবারের সদস্যা অন্তরা ঘোষ বলেন, "গতকাল রাতে পাপাই ঘোষ, মেঘনাথ রায়, বিশু দাশ, সন্দীপ হালদার, প্রিন্স রায় সহ আরও কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী আমাদের বাড়িতে এসে হামলা করে। বাড়ির লোহার গেট ভেঙে তারা ভেতরে ঢুকে আমার দাদা, জ্যাঠা, পিসি সহ পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্যের শ্লীলতাহানি এবং মারধর করে। পাড়ার লোকেরা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।"

 

তিনি বলেন, "আমাদের একটাই অপরাধ ভোটের দিন আমরা অধীর চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং তাঁর জন্য পানীয় জল, খাবার এবং পাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। যদিও অধীর চৌধুরী আমাদের কাছে কিছুই চাননি। সবটাই সৌজন্যের খাতিরে আমরা করেছিলাম।"

 

ঘোষ পরিবারের উপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে সেখানে পৌঁছে যান অধীর চৌধুরী। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এই পরিবার কংগ্রেস না তৃণমূল দলের সমর্থক তা আমি জানি না। একটি সাধারণ পরিবারের উপর হামলা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।"

 

তিনি বলেন, "ভোটের দিন এই এলাকার একটি বুথে সমস্যা হচ্ছিল। তাই আমি সেদিন এখানে এসেছিলাম এবং একটি মন্দিরের কাছে বসেছিলাম। মন্দিরের মালিকেরা আমাকে খাবার-জল দিতে এসেছিল কিন্তু আমি সেসব গ্রহণ করিনি। সেই সময় তাঁরা আমার জন্য একটি পাখার ব্যবস্থা করেন। যদিও আমি সেটা দিতেও বারণ করেছিলাম। কেবলমাত্র এই অপরাধে তৃণমূল এবং পুলিশের মদতে এই পরিবারের উপর হামলা হয়েছে।"

 

এরপরই অধীর চৌধুরী এলাকার সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাড়িতে লাঠি-বল্লম নিয়ে প্রস্তুত থাকার আবেদন করেন। তিনি বলেন, "দুর্বৃত্তরা আসলে পাল্টা আক্রমণে নামুন, এ ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। এখানে প্রশাসন বলে কিছু নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনী ভাল কাজ করছে কিন্তু তারা তো এলাকার রাস্তাঘাট আর দুষ্কৃতীদেরকে চেনে না। পুলিশ সম্পূর্ণভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছে।"

 

এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়ার জন্য পাপাই ঘোষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও, তিনি জবাব দেননি। বহরমপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 

গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বহরমপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন, "পাপাই ঘোষ তো বহরমপুরেই নেই, তিনি এখন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় রয়েছেন। অধীরবাবু উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য এসব করছেন।"