আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর.জি. কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে সম্প্রতি এক জনসভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বিজেপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে এক কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক ব্যানার্জি শুরুতেই তাঁর কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বিজেপির মহিলা প্রার্থীর প্রতি কোনও  প্রকার অশালীন আচরণ বা আক্রমণ না করার জন্য তিনি তৃণমূল সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে শালীনতার বাইরে গিয়ে কাউকে আক্রমণ করা তাঁদের দলের শিক্ষা নয়।

আর.জি. কর কাণ্ডের পর সারা বাংলা জুড়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, বিশেষ করে মহিলাদের 'রাত দখল' কর্মসূচিকে কুর্নিশ জানান অভিষেক। তিনি বলেন, মানুষের এই লড়াইকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। তবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কলকাতা পুলিশ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও, সিবিআই তদন্তের ভার নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও  বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

facebook.com/reel/1818951389079527/?rdid=pqAkuQMJ4NfGvyte&share_url=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fshare%2Fv%2F18SaAhxZqv%2F#

বক্তব্যের মূল কেন্দ্রে ছিল রাজ্য সরকারের পাশ করা 'অপরাজিতা বিল'। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন যে, ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাজা এবং দ্রুত বিচারের লক্ষে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এই বিল পাশ করা হয়েছে। আগামী ২৪ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বাংলা সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজেপির প্রার্থীর কাছে তাঁর আবেদন, তিনি যদি সত্যি বিচার চান, তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করুন যাতে রাষ্ট্রপতি এই বিলে দ্রুত সই করেন। বিলটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে এবং এটি কার্যকর হলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে আর.জি. কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে প্রশমিত করতে এবং বলটি কেন্দ্রের কোর্টে ঠেলে দিতেই অভিষেক ব্যানার্জি 'অপরাজিতা বিল'-এর প্রসঙ্গটি ফের সামনে এনেছেন। একদিকে তিনি যেমন তদন্তের ধীরগতি নিয়ে সিবিআই-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, অন্যদিকে আইনি জটিলতার জন্য কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুলেছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জের জবাবে গেরুয়া শিবির বা খোদ প্রধানমন্ত্রী কোনো পাল্টা বার্তা দেন কি না।