এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উন্নয়নের জয়গান গেয়ে জনমানসে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া বামফ্রন্ট। রাজ্যের বাজেটের অন্তত ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে বামেরা এবার তাদের চিরাচরিত জনকল্যাণমুখী রাজনীতির জয়গান গাইছে।
2
8
বিশেষ করে গ্রাম বাংলার দরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির যে অঙ্গীকার তারা করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে কাজের খোঁজে বাংলার গ্রামীণ শ্রমজীবীদের বড় একটা অংশ ভিনরাজ্যে বা শহরে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন, সেই যন্ত্রণার অবসান ঘটানোই এখন বামপন্থীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
3
8
পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি জনবহুল কৃষিপ্রধান রাজ্যে এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল, বিদ্যুৎ বা নূন্যতম স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বামফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট করেছে যে, ক্ষমতায় এলে এই সাধারণ সুযোগ-সুবিধাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে তাদের অগ্রাধিকার।
4
8
উল্লেখ্য, এই মাসের ২৩ এবং ২৯ তারিখে দুই দফায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। প্রায় ১০ কোটি জনসংখ্যার এই রাজ্যে এবার ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি। মূলত তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের এই চতুর্মুখী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্ন কতটা গুরুত্ব পায়, সেটাই এখন দেখার।
5
8
সিপিআই (এম), সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি-র মতো দলগুলো নিয়ে গঠিত এই জোটের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশন। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনামলে রাজ্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভূমিসংস্কারের যে জোয়ার এসেছিল, সেই সোনালী অতীতকে হাতিয়ার করেই মানুষের কাছে যাচ্ছেন বাম প্রার্থীরা।
6
8
তাদের দাবি, তৃণমূলের উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছে এবং পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিজেপি-র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত। বামেদের অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যে বিভাজনের রাজনীতি করছে, তাতে মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্নগুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে।
7
8
রাজ্য সিপিআই (এম) সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলা ও দেশ বাঁচাতে তাদের স্লোগান হলো ‘বাংলা বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। তিনি মনে করেন, বাংলার হাজার বছরের ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার যে চেষ্টা চলছে, বামপন্থীরাই তা রুখতে সক্ষম। এবার বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় এক ঝাঁক তরুণ মুখ নজর কেড়েছে। বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে যেভাবে যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে, সেই জ্বলন্ত ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছেন এই তরুণ প্রার্থীরা।
8
8
এর পাশাপাশি রাজ্যে নারী নিরাপত্তা এবং আরজি কর হাসপাতালের মতো নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নেও সুর চড়িয়েছে বামেরা। নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বামফ্রন্ট একে দরিদ্র ও সংখ্যালঘু মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে। সব মিলিয়ে, এক কঠিন রাজনৈতিক আবহে মানুষের অস্তিত্বের লড়াইকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে বামফ্রন্ট।