রাজনীতিতে যখন কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পাহাড় আর বিলাসিতার আস্ফালন সাধারণ মানুষের গা-সওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এক অন্যরকম ছকভাঙা ছবি তুলে ধরলেন বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দমদম কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামা এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে। যে ‘সর্বহারা’র লড়াইয়ের কথা সিপিআইএম চিরকাল বলে এসেছে, দীপ্সিতার হলফনামায় যেন সেই ভাবমূর্তিরই এক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
2
5
প্রচার পর্বে দীপ্সিতার বাগ্মিতা আর মেজাজ অনেক আগেই নজর কেড়েছিল। কিন্তু এবারের হলফনামা বলছে, তিনি কেবল রাজনীতির ময়দানেই তুখোড় নন, পড়াশোনাতেও তিনি একজন কৃতি ছাত্রী। ২০০৮ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৩ সালে স্নাতক স্তর পেরিয়ে ২০১৯-এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন দীপ্সিতা। এরপর আন্দোলনের ব্যস্ততার মাঝেই চালিয়ে গিয়েছেন গবেষণা। হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই সমাজ বিজ্ঞান শাস্ত্রে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত এই তরুণীর ঝুলিতে ডিগ্রির সংখ্যা একাধিক হলেও, আয়ের ভাঁড়ার কিন্তু কার্যত শূন্য। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।
3
5
দীপ্সিতার হলফনামার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, মনোনয়ন পেশের সময় তাঁর হাতে নগদ ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তিনটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তাঁর মোট গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৬ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা থাকলেও অন্য দুটিতে রয়েছে যথাক্রমে ১৯ হাজার ১৭৫ টাকা এবং মাত্র ৭৮২ টাকা। এছাড়া প্রায় ১ লক্ষ টাকার একটি বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪২১ টাকা। উল্লেখ্য, তাঁর কোনও ধারদেনা বা ঋণ নেই।
4
5
বর্তমান যুগে দাঁড়িয়েও যে একজন প্রথম সারির নেত্রীর নিজস্ব কোনও বাড়ি, জমি বা গাড়ি থাকতে পারে না, দীপ্সিতার হলফনামা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। তাঁর নামে কোনও সোনার গয়না পর্যন্ত নেই। স্থাবর সম্পত্তির ঘরে ‘শূন্য’ সংখ্যাটি অনেককেই অবাক করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রায় সম্পত্তিহীন ‘সাধারণ’ জীবনযাপন উত্তর দমদমের মতো এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে পারে।
5
5
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করলেও দীপ্সিতার জয় অধরা ছিল। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দমদম কেন্দ্রে তাঁকে ঘিরে বাম কর্মীদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। একদিকে পিএইচডি হোল্ডার প্রার্থীর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন—এই দুইয়ের মিশেলকেই হাতিয়ার করছে সিপিআইএম। বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়ে ভোটারদের কাছে এক স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন দীপ্সিতা। এখন দেখার, কোটিপতি প্রার্থীদের ভিড়ে এই ‘সাধারণ’ প্রার্থীর ইমেজ শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উত্তর দমদমের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।