আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাকরি পরিবর্তন করা আজকাল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় পুরনো প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টগুলোর খোঁজ রাখছেন তো? সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ মানুষই তা করছেন না—আর সেই অবহেলার ফলেই কোটি কোটি টাকা পড়ে রয়েছে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়।
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ৩১.৮৭ লক্ষ নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ১০,৯১৫ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এই সংখ্যা গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে, যদিও সিস্টেমকে সহজ করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ইপিএফ মূলত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবে কোনও অ্যাকাউন্টে টানা তিন বছর কোনও লেনদেন না হলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯.৮ লক্ষ, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১.৯ লক্ষে—মাত্র পাঁচ বছরে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি। এই প্রবণতা প্রশ্ন তুলছে পিএফ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে।
ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল পিএফ অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাকে সহজ করা। একটি ইউএএন মাধ্যমে একাধিক চাকরির পিএফ অ্যাকাউন্ট একত্রিত করার সুবিধা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা উল্টো বেড়েই চলেছে।
ইউএএন ছিল একটি সমাধান—একটি নম্বর, একটি অ্যাকাউন্ট। কিন্তু ২০২০ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্ট তিনগুণ বেড়ে যাওয়া দেখাচ্ছে, সমস্যার সমাধান এখনও পুরোপুরি হয়নি। তবে ইতিবাচক দিক হল, আপনার পিএফ টাকা ফেরত পাওয়া বা ট্রান্সফার করা খুব একটা জটিল নয়—যদি আপনার কেওয়াইসি তথ্য সঠিকভাবে আপডেট থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রথমেই ইপিএফও সদস্য পোর্টালে লগইন করে দেখে নিন আপনার ইউএএন সঙ্গে কতগুলি অ্যাকাউন্ট যুক্ত রয়েছে। যেসব অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হয়নি, সেগুলি অনলাইনে ক্লেইম বা ট্রান্সফার করা সম্ভব নয়।
এছাড়া নিয়মিতভাবে পিএফ পাসবুক চেক করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্তত প্রতি তিন মাসে একবার নিজের পিএফ ব্যালেন্স এবং লেনদেন পর্যালোচনা করা উচিত। অনেক সময় চাকরি পরিবর্তনের ব্যস্ততায় আমরা পিএফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয়কে অবহেলা করি। কিন্তু বাস্তবে, এটি অনেকেরই জীবনের সবচেয়ে বড় অবসরকালীন সম্পদ।
&t=546s
তাই দেরি না করে আজই নিজের PF অ্যাকাউন্টগুলি যাচাই করুন। হয়তো আপনার অজান্তেই পড়ে রয়েছে এমন কিছু টাকা, যা পুরোপুরি আপনারই—শুধু দাবি করার অপেক্ষায়।















