আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার দিনভর দালাল স্ট্রিটের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। দিনের শুরু থেকেই মুখ ভার ছিল বিনিয়োগকারীদের। সেখান থেকে সেনসেক্স এবং নিফটি দুয়েরই নিম্নমুখী দিক সকলকে অবাক করে দিয়েছে।
বুধবার বাজারের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও দিন গড়াতেই তীব্র বিক্রির চাপে ভেঙে পড়ে দেশীয় শেয়ারবাজার। এদিন বিএসই সেনসেক্স ১,৪৪৩.২১ পয়েন্ট বা ১.৭২ শতাংশ পতন নিয়ে দাঁড়ায় ৮২,২৯১.০৪-এ। একই সময়ে নিফটি ফিফটি ৪১৬.৮৫ পয়েন্ট বা ১.৬১ শতাংশ কমে ২৫,৪০২.৫০-এ লেনদেন করছিল। বাজারে গতিও ছিল নেতিবাচক—১,১৭৯টি শেয়ার বাড়লেও ২,৭০০টি শেয়ার পড়ে যায় এবং ১২৬টি অপরিবর্তিত থাকে।
নিফটি ৫০-এর মধ্যে মাত্র চারটি শেয়ার লাভে ছিল, বাকি প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিক্রির চাপ দেখা যায়। ট্রেন্ট, ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন এবং আদানি এন্টারপ্রাইজেস প্রায় ২ শতাংশ করে পড়ে যায়। পাশাপাশি জেএসডব্লিউ স্টিল, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, ভারত ইলেকট্রনিক্স, এশিয়ান পেইন্টস এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রায় ১ শতাংশ করে ক্ষতিতে ছিল।
তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কিছুটা উত্থান লক্ষ্য করা যায়। মার্কিন বাজারে প্রযুক্তি শেয়ারের উত্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় আইটি স্টকগুলিতে ক্রয় আগ্রহ দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক বাজারে লাভ তুলতে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের ‘প্রফিট বুকিং’-এর প্রবণতা স্পষ্ট হয়। টানা তিন সেশন ধরে প্রায় ১.৪ শতাংশ করে বাড়ার পর এই সংশোধন এসেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
১৬টি প্রধান সেক্টরের মধ্যে ১৩টিতেই পতন নথিভুক্ত হয়েছে। বিস্তৃত বাজারেও চাপ ছিল—স্মলক্যাপ সূচক ১.২৭ শতাংশ এবং মিডক্যাপ সূচক ১.৬ শতাংশ কমে যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এই জল্পনায় অপরিশোধিত তেলের দাম আগের সেশনের উত্থান ধরে রেখেছে। এর প্রভাবও বাজারের উপর পড়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নিফটির ক্ষেত্রে ২৫,৯০০-২৬,০০০ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ বাধা। এই স্তরের উপরে টেকসই ব্রেকআউট না হলে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী গতি আসা কঠিন। অস্থিরতা ও বিশ্বের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে মূলত শক্তিশালী মৌলিক ভিত্তির শেয়ারে নজর দেওয়া উচিত। ২৬,০০০-এর উপরে স্থায়ীভাবে উঠতে পারলে তবেই বাজারে আস্থার স্পষ্ট উন্নতি ধরা পড়বে।
ভোলাটিলিটি সূচক ইন্ডিয়া ভিক্স ৮.১ শতাংশ বেড়ে ১৩.২১-এ পৌঁছেছে, যা স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উপরন্তু, এদিন সেনসেক্সের এফঅ্যান্ডও এক্সপায়ারি থাকায় বাজারে ওঠানামা আরও বাড়তে পারে।
ব্যাঙ্কিং খাতেও চাপ স্পষ্ট। কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ও ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক ১ থেকে ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে। ব্যাঙ্ক নিফটি ৬১,০০০-এর আশেপাশে লেনদেন করছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনে বাজারের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাবে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের কাছে লাভের দিক কিছু থাকবে না বললেই চলে।
