আজকাল ওয়েবডেস্ক: কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প হল সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা। উচ্চ সুদের হার, কর ছাড় এবং সরকারি গ্যারান্টির কারণে বহু পরিবার এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন। তবে অনেকেই জানেন না, মাসের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না করলে দীর্ঘমেয়াদে ম্যাচিউরিটির অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বর্তমানে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়। এই সুদ বছরে একবার অ্যাকাউন্টে জমা হলেও হিসাব করা হয় মাসভিত্তিক। আর এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫ তারিখের আগে বা ৫ তারিখের মধ্যে জমা হওয়া অর্থের উপর সেই মাসের সুদ গণনা করা হয়। কিন্তু যদি ৫ তারিখের পরে টাকা জমা পড়ে, তাহলে ওই মাসের জন্য সেই অর্থের উপর কোনও সুদ পাওয়া যায় না। ফলে নিয়মিত এই সময়সীমা মিস করলে দীর্ঘমেয়াদে সুদ এবং চক্রবৃদ্ধি হারের সুবিধা কমে যায়।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনও অভিভাবক প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে জমা করছেন। যদি কোনও মাসে ৫ তারিখের পরে টাকা জমা হয়, তাহলে ৮.২ শতাংশ সুদের হারে ওই মাসে প্রায় ৮৫ টাকার সুদ হারাতে পারেন। অঙ্কটি ছোট মনে হলেও ১৫ বছরের জমা পর্ব এবং ২১ বছরের মেয়াদে এই ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা মূলত ১০ বছরের কম বয়সী কন্যাসন্তানের জন্য চালু করা হয়েছে। একজন অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বছরে ন্যূনতম ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়।
সাধারণত অ্যাকাউন্ট খোলার ২১ বছর পরে এটি সম্পূর্ণ হয়। তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিয়ে হলে নির্দিষ্ট শর্তে আগাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়। যদিও অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ২১ বছর, বিনিয়োগ করতে হয় মাত্র ১৫ বছর পর্যন্ত। এরপর অবশিষ্ট সময়ে জমাকৃত অর্থের উপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বাড়তে থাকে।
একটি পরিবার সর্বাধিক দুটি সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। তবে যমজ বা তিন সন্তান একসঙ্গে জন্মালে বিশেষ ছাড় রয়েছে। দত্তক কন্যার ক্ষেত্রেও এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। তবে অনাবাসী ভারতীয় কন্যার নামে এই অ্যাকাউন্ট চালানো যায় না।
&t=1s
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়ের উচ্চশিক্ষা বা ভবিষ্যতের বড় খরচের জন্য তহবিল গড়ে তুলতে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা অত্যন্ত কার্যকর। তবে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে হলে প্রতি মাসে ৫ তারিখের আগেই জমা নিশ্চিত করা জরুরি। এই ছোট্ট নিয়ম মানলেই দীর্ঘমেয়াদে মেয়ের জন্য আরও বড় আর্থিক সুরক্ষা গড়ে তোলা সম্ভব।















