আজকাল ওয়েবডেস্ক: আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে করদাতাদের ব্যস্ততা। অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭-এর জন্য বেতনভোগী কর্মী, পেনশনভোগী এবং যাঁদের ক্ষেত্রে ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজন নেই, তাঁদের ৩১ জুলাই-এর মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। অনেকেই মনে করেন, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পরে রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। ঠিক হলেও, দেরি করলে শুধু জরিমানা নয়, ভবিষ্যতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধাও হারাতে হতে পারে।


আয়কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে ITR জমা দিলে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যায়। যদিও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ‘বিলেটেড রিটার্ন’ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে, তবুও সেই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, সুদ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-ছাড়ের সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।


কারা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ITR জমা দেবেন?
সাধারণভাবে বেতনভোগী কর্মী, পেনশনভোগী এবং যাঁদের আয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজন নেই, তাঁদের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী বা পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে, ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা কিছুটা পরে হতে পারে।


দেরি করলে কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন?
সবচেয়ে বড় ক্ষতির একটি হল ক্যাপিটাল লস বহন করার সুযোগ হারানো। ধরুন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আপনি শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্য কোনও মূলধনী সম্পদ বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেই ক্ষতি আগামী ৮টি অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার পর্যন্ত বহন করে ভবিষ্যতের মূলধনী লাভের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। ফলে ভবিষ্যতে ক্যাপিটাল গেইনের উপর করের বোঝা কমে।


কিন্তু এই সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ITR জমা দিতে হবে। যদি ৩১ জুলাইয়ের পরে বিলেটেড রিটার্ন দাখিল করেন, তাহলে এই সুবিধা আর মিলবে না। ফলে ভবিষ্যতে শেয়ার বা অন্য সম্পদ বিক্রির সময় বেশি কর দিতে হতে পারে।


তবে হাউস প্রপার্টি লস-এর ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। আয়কর আইনের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাড়ি থেকে হওয়া ক্ষতি নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলেও বহন করা যেতে পারে।


কত জরিমানা দিতে হবে?
নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে আয়কর আইনের ২৩৪এফ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লেট ফাইলিং ফি দিতে হতে পারে। তবে মোট করযোগ্য আয় ৫ লক্ষ টাকার বেশি না হলে এই জরিমানা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা।


এছাড়া যদি কর বকেয়া থাকে, তাহলে ২৩৪এ ধারা অনুযায়ী প্রতি মাস বা মাসের অংশের জন্য ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে এই সুদ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন TDS, অগ্রিম কর এবং অন্যান্য কর-ছাড় সমন্বয়ের পরেও কর বকেয়া থেকে যায়।


বিলেটেড রিটার্ন ও রিভাইজড রিটার্ন এক নয়
অনেকেই বিলেটেড এবং রিভাইজড রিটার্নকে এক মনে করেন। বাস্তবে দুটির উদ্দেশ্য আলাদা। বিলেটেড রিটার্ন হল নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর জমা দেওয়া রিটার্ন। অন্যদিকে রিভাইজড রিটার্ন হল আগে জমা দেওয়া রিটার্নে কোনও ভুল, তথ্য বাদ পড়া বা ভুল ঘোষণা সংশোধনের সুযোগ।


রিভাইজড রিটার্ন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে বিলেটেড রিটার্ন জমা দিলে লেট ফি ও সুদ দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাপিটাল লস বহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধাও হারাতে হতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ITR জমা দিন। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ানো যাবে, তেমনই ভবিষ্যতের কর-সুবিধাও সুরক্ষিত থাকবে।

&t=28s