আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শেয়ার বাজারে বুধবার দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেলেন বিনিয়োগকারীরা। ওষুধ ও ব্যাঙ্কিং খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। এর জেরে বিএসই সেনসেক্স ৬০৩.৫১ পয়েন্ট বা ০.৭৮ শতাংশ পড়ে ৭৬,৮৬৬.৬০-এ নেমে আসে। একই সময়ে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ১৬০.৭৫ পয়েন্ট বা ০.৬৬ শতাংশ কমে ২৪,০২৬.৯৫-এ লেনদেন করছিল।
শুধু বড় সংস্থার শেয়ারই নয়, ছোট ও মাঝারি সংস্থার শেয়ারেও বিক্রির চাপ ছিল স্পষ্ট। নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ১.১০ শতাংশ, নিফটি মিডক্যাপ ১০০ ০.৭০ শতাংশ এবং নিফটি মিডক্যাপ ৫০ ০.৭৪ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়।
ফার্মা শেয়ারে বড় ধাক্কা
বাজার পতনের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ফার্মাসিউটিক্যাল খাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের উপর ধাপে ধাপে উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির শেয়ারে তীব্র বিক্রি শুরু হয়। নিফটি ফার্মা সূচক ১.৭০ শতাংশ পড়ে দিনের সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা সেক্টরে পরিণত হয়।
গ্ল্যান্ড ফার্মা, পিপিএল ফার্মা, আলকেম ল্যাবরেটরিজ, লুপিন, অজন্তা ফার্মা, অরবিন্দো ফার্মাসহ একাধিক সংস্থার শেয়ারে ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা যায়। পাশাপাশি গ্লেনমার্ক, বায়োকন এবং লরাস ল্যাবসের মতো সংস্থার শেয়ারেও চাপ ছিল।
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি
মধ্য এশিয়াতে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক হওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে বিমান পরিবহণ, রাসায়নিক, পেইন্ট এবং এফএমসিজি খাতের উপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যাঙ্কিং ও আইটি শেয়ারেও বিক্রির চাপ
ফার্মার পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা খাতেও বড় ধাক্কা লাগে। নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক সূচক ১.৩৮ শতাংশ এবং নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ১.০৯ শতাংশ কমে যায়। এসবিআই, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক এবং কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়।
আইটি খাতেও দুর্বলতা ছিল। টেক মহিন্দ্রা, ইনফোসিস এবং টিসিএসের শেয়ার লাল চিহ্নে লেনদেন করছিল। পাশাপাশি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আদানি পোর্টস, সান ফার্মা এবং ট্রেন্টের মতো বড় সংস্থার শেয়ারও চাপে ছিল।
তবে এই নেতিবাচক বাজারেও অটো খাত কিছুটা স্বস্তি দেয়। জুন ত্রৈমাসিকের ইতিবাচক ব্যবসায়িক আপডেটের জেরে নিফটি অটো সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংশোধন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো মানের শেয়ার কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
















