আজকাল ওয়েবডেস্ক: আয়কর রিটার্ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক করদাতাই একটি বড় ভুল করে বসেন—রিটার্ন ফাইল করার পর ই-ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করেন না। অথচ শুধু ITR জমা দিলেই করদায়িত্ব শেষ হয় না। আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন যাচাই বা ভেরিফিকেশন না করলে সেটিকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। অর্থাৎ, আইনগতভাবে ধরে নেওয়া হবে যে রিটার্নটি কখনও জমাই দেওয়া হয়নি।


আয়কর দপ্তর জানিয়েছে, রিটার্ন সফলভাবে ভেরিফাই হওয়ার পরই তা প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। এর পরেই করদাতার করের হিসাব চূড়ান্ত করা, রিফান্ড থাকলে তা অনুমোদন করা এবং প্রয়োজনীয় নোটিশ বা আপডেট পাঠানোর মতো কাজ শুরু হয়। ফলে ই-ভেরিফিকেশন না করলে রিফান্ড পেতে অযথা দেরি হতে পারে এবং কর সংক্রান্ত অন্যান্য পরিষেবাও আটকে যেতে পারে।


বর্তমানে আয়কর দফতরের ই-ফাইলিং পোর্টালের মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইনে ই-ভেরিফিকেশন করা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আর সই করা ITR-V কপি সেন্ট্রালাইজড প্রসেসিং সেন্টারে ডাকযোগে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।


ই-ভেরিফিকেশনের আগে কী কী বিষয় নিশ্চিত করবেন?
ই-ভেরিফিকেশন শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। যেমন—
প্যান এবং আধার পরস্পরের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রি-ভ্যালিডেটেড থাকতে হবে।
আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর সচল থাকতে হবে।
ITR অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর হাতের কাছে রাখতে হবে।


কীভাবে করবেন ই-ভেরিফিকেশন?
আয়কর দপ্তর করদাতাদের সুবিধার জন্য একাধিক ই-ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করেছে।
আধার ওটিপি: সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। আধার লিঙ্ক করা মোবাইলে আসা ওটিপি দিয়ে সহজেই ভেরিফিকেশন করা যায়।
ইলেকট্রনিক ভেরিফিকেশন কোড: প্রি-ভ্যালিডেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইভিসি জেনারেট করে ব্যবহার করা যায়।
নেট ব্যাঙ্কিং: সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নেট ব্যাঙ্কিং থেকে সরাসরি ই-ফাইলিং পোর্টালে লগইন করে ভেরিফিকেশন করা সম্ভব।
ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট: মূলত ব্যবসায়ী ও নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
ব্যাঙ্ক এটিএমের মাধ্যমে ইভিসি: কিছু নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের এটিএম থেকেও ইভিসি তৈরি করে ই-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা যায়।


বর্তমানে ITR ফাইলিংয়ের মরশুমে করদাতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু রিটার্ন জমা দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করলে তবেই রিটার্ন বৈধ বলে গণ্য হবে, দ্রুত রিফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো যাবে।

&t=28s