আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহু বছর ধরে মাসের নির্দিষ্ট বেতনকেই আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখা হত। মাসের শেষে বেতন ঢুকলেই স্বস্তি, ইএমআই মেটানো সহজ, আর্থিক পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ থাকত কিছু সঞ্চয় আর একটি হোম লোনেই। কিন্তু ২০২৬ শুরু হতেই সেই স্থিতিশীলতার এই ধারণা বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।


একদিকে লাগামছাড়া জীবনযাত্রার খরচ, অন্যদিকে চাকরির ধরনে পরিবর্তন ও বড় আকারের শ্রম আইন সংস্কার—সব মিলিয়ে বেতনভোগী ভারতীয়দের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে, তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আসলে কতটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে।


সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার চারটি শ্রম কোডের জন্য খসড়া নিয়ম প্রকাশ করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত চেয়েছে। এই কোডগুলি ২৯টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে একত্রিত করে চারটি মূল আইনে ভাগ করেছে—মজুরি, শিল্প সম্পর্ক, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা। ২০২৬ সালের মধ্যেই এগুলি কার্যকর হওয়ার পথে। খসড়া নিয়মে মজুরি কীভাবে গণনা হবে, কাজের সময় কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার মতো সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে—সবই স্পষ্ট করা হয়েছে। এমনকি গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীরাও এর আওতায় আসছেন।


৫০% মজুরি নিয়ম ও টেক-হোম পে
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মজুরি কোড থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে ‘বেসিক পে’। এতে দীর্ঘমেয়াদে পিএফ ও গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা বাড়লেও, অনেক কর্মীর মাসিক টেক-হোম বেতন কমে যাবে। ফলত, প্রথম ধাক্কা আসবে খরচের জায়গায়।


কম সঞ্চয়ের ঘাটতি পোষাতে অনেক বেতনভোগী মানুষ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারেন, ঝুঁকির দিকটা পুরোপুরি না বুঝেই। এতে ভারতের ‘রিস্ক কালচার’ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।


কোম্পানিগুলির জন্যও এই পরিবর্তন সহজ নয়। ৫০ শতাংশ মজুরি মানতে গিয়ে বেতন কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে, পেরোল ও এইচআরএমএস সিস্টেম বদলাতে হবে, এমনকি কিছু সময়ের জন্য সমান্তরাল পেরোল চালাতে হতে পারে। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

&t=1479s


সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল বেতনভোগী ভারতীয়দের জন্য শুধু আইনি পরিবর্তনের বছর নয়—এটি আর্থিক বাস্তবতা নতুন করে বোঝার ও প্রস্তুতির বছরও। তাই আগে থেকে যদি এবিষয়ে চিন্তাভাবনা না করা হয় তাহলে সেখান থেকে আগামীদিনের সমস্যা এড়ানো যেতেই পারে।