আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ি ভাড়া ভাতার নিয়মে বড় বদল। খসড়া আয়কর বিধি, ২০২৬ এর অধীনে, কর্মচারীদের বাড়িওয়ালার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে। বিশেষ করে ভাড়া যখন বাবা-মা, স্ত্রী, ভাইবোন বা অন্যান্য আত্মীয়দের দেওয়া হয়।
এই পরিবর্তনটি নতুন আয়কর আইন, ২০২৫ কাঠামোর অংশ, যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য জাল ভাড়া রসিদ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এইচআরএ-এর (বাড়ি ভাড়া ভাতা) অপব্যবহার রোধ করা।
সম্পর্ক প্রকাশ বাধ্যতামূলক
এখন পর্যন্ত, কর্মীদের এইচআরএ দাবি করার জন্য মূলত ভাড়ার রসিদ এবং বাড়িওয়ালার প্যান প্রয়োজন ছিল। নতুন আইনে এই নিয়ম আরও কড়া হচ্ছে। যদি বছরে মোট প্রদত্ত ভাড়া এক লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে করদাতাদের কেবল বাড়িওয়ালার নাম, ঠিকানা এবং প্যান নম্বরই নয়, বাড়িওয়ালার সঙ্গে তাদের সঠিক সম্পর্কও নির্ধারিত ফর্মে ঘোষণা করতে হবে।
এর অর্থ হল করদাতাদের স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে, ভাড়াটি বাবা-মা, স্ত্রী, ভাইবোন বা অন্য কোনও আত্মীয়কে দেওয়া হচ্ছে কিনা। কর বিভাগ পরিবার-ভিত্তিক ভাড়া ব্যবস্থার স্বচ্ছ্বতা চায়, যা প্রায়শই কর পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে।
প্রকৃত ভাড়া ব্যবস্থার উপর নজরদারি কর্তৃপক্ষ
সরকার পরিবারের সদস্যদের ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি নিষিদ্ধ করেনি। এই ধরনের ব্যবস্থা বৈধ এবং আইনি রয়েছে। তবে, কর কর্তারা এখন সঠিক নথিপত্র এবং স্পষ্ট অর্থের সেনদেন আশা করেন।
ব্যবহারিকভাবে, একটি আনুষ্ঠানিক ভাড়া চুক্তি থাকা উচিত এবং নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যাঙ্ক স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা উচিত। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বাড়িওয়ালা বা ভাড়া গ্রহণকারী পরিবারের সদস্যকে তাদের নিজস্ব আয়কর রিটার্নে ওই অর্থকে ভাড়া আয় হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে যে, লেনদেন আসল এবং কেবল কর হ্রাস করার জন্য তৈরি করা হয়নি।
আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন যে, ভাড়ার রসিদ দেখানোর পরিবর্তে এখন লক্ষ্য পরিবর্তন করা হচ্ছে। ভাড়া যুক্তিসঙ্গত বাজার হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
তথ্য গোপন বা ভুল প্রতিবেদন করার জন্য জরিমানা
যেসব করদাতা বাড়িওয়ালার সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন বা মিথ্যা দাবি করেন তাদের গুরুতর পরিণতি হতে পারে। যদি কর বিভাগ দেখে যে, ভাড়া দাবিটি ভুল বা অসমর্থিত, তাহলে এটাকে আয়ের ভুল প্রতিবেদন হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
নতুন আয়কর আইনের অধীনে, সুদ এবং সম্ভাব্য কর নোটিশ-সহ, ভুলভাবে এড়ানো করের ২০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দাবি করা ভাড়া এবং বাড়িওয়ালার দ্বারা রিপোর্ট করা আয়ের মধ্যে কোনও অমিল থাকলে করদাতারাও নোটিশ পেতে পারেন।
বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য এর অর্থ কী
আসন্ন পরিবর্তনগুলির অর্থ হল এইচআরএ দাবি করা বেতনভোগী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ভাড়া দেওয়ার সময়, যথাযথ নথিপত্র রাখতে হবে এবং সম্পূর্ণ প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। শক্তিশালী প্রতিবেদন এবং তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে, অসম্পূর্ণ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা আর যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারে না।
অনেক করদাতার জন্য, এটা তাদের এইচআরএ দাবি পর্যালোচনা করার এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে সবকিছু সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সতর্কতা।
