আজকাল ওয়েবডেস্ক: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া গ্রাহক সুরক্ষার দিকে জোর দিয়েছে। স্বল্প মূল্যের প্রতারণার শিকারদের জন্য ত্রাণ প্রদানের লক্ষ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নজিরবিহীন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করেছেন য়ে, ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হলে গ্রাহকদের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। 

এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া হবে 'ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস' (ডিইএ) ফান্ড থেকে। বর্তমানে এই তহবিলে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা দাবিহীন আমানত দিয়েই এই তহবিল তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ছোটখাটো প্রতারণার জন্য একটি নতুন ক্ষতিপূরণ কাঠামো প্রকাশ করেছে। তাতে উল্লেখ করেছে যে. প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতারণার ঘটনায় টাকার পরিমাণ ৫০,০০০ টাকার কম।

আরবিআই বলেছে, "আমরা ছোটখাটো প্রতারণার জন্য একটি ক্ষতিপূরণ কাঠামো নিয়ে আসছি। আমরা দেখেছি যে, যদিও টাকার অঙ্কে এগুলো ছোট, কিন্তু সংখ্যার দিক থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতারণার ঘটনা ৫০,০০০ টাকার নীচে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা প্রতারিত হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির জন্য তাঁদের কোনও দায় থাকবে না - কোনও প্রশ্ন ছাড়াই। এটা যাতে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সিস্টেমে কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের জন্য ১৫ শতাংশ এবং ব্যাঙ্কগুলির জন্য ১৫ শতাংশ দায়বদ্ধতা থাকবে। বাকি টাকা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রদান করবে। টাকার পরিমাণ খুব কম হলেও, ছোট গ্রাহকদের জন্য এর অনেক মূল্য। এটা তাৎক্ষণিক ত্রাণ এবং সান্ত্বনা প্রদানের একটি উপায়।"

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা সাপেক্ষে, ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির জন্য গ্রাহকদের কোনও দায় থাকবে না। এই কাঠামোটি একটা যৌথ দায়বদ্ধতার সূচনা করেছে, যেখানে গ্রাহক এবং ব্যাঙ্ক উভয়কেই ১৫ শতাংশ করে বহন করতে হবে, এবং বাকি টাকা আরবিআই ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেবে, যা ছোট আমানতকারীদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে।

এককালীন সুবিধা, বারবার নয়
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) স্পষ্ট করেছে যে প্রতারণার জন্য ক্ষতিপূরণ একজন গ্রাহক কেবল একবারই পাবেন। আরবিআই জোর দিয়ে বলেছে যে, এই কাঠামোটি বারবার সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক ত্রাণ প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জোর দিয়ে বলেছে যে, যদিও তারা স্বল্প মূল্যের প্রতারণার শিকারদের সান্ত্বনা দিতে চায়, তবে গ্রাহকদের সতর্ক থাকতে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ বারবার ভুল বা অবহেলার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অধীনে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।