আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন সংসার পাততে চলেছেন তার আগে নতুন বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। বাড়ি কেনা সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তবে, যেহেতু এর সঙ্গে আর্থিক প্রতিশ্রুতি জড়িত, তাই সংসারের একজনকে অবশ্যই একটি সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি যদি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেন তবে এখানে পাঁচটি বিষয় মনে রাখা উচিত।

১. আর্থিক স্বচ্ছতা: বাড়ি কেনা একটি আবেগঘন সিদ্ধান্ত। তবে এটি আর্থিক স্বচ্ছতার দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত, কোনও চাপের পড়ে নয়। মেট্রো শহরগুলিতে প্রতিনিয়ত বাড়ির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বাড়ির দাম। বিশেষজ্ঞদের পরমার্শ, বাড়ি কেনার আগে আর্থিক স্থিতিশীলতা, চাকরিক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিশ্চিত আয়ের উৎস থাকলেই বাড়ি কেনার কথা চিন্তা ভাবনা করা উচিৎ।

২. সামর্থ্য বনাম আকঙ্খা: নিশ্চিত করুন যে ইএমআই আপনার মাসিক আয়ের ৩০-৩৫% এর বেশি না হয়। শুধু ইএমআই নয়, সম্পত্তি কর, রক্ষণাবেক্ষণ, রেজস্ট্রেশন খরচ এবং জিএসটি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। এই সব ধরলে বাড়ির দামের বাইরেও ১৫-২০% খরচ বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বার্ষিক আয়ের পাঁচগুণ দামি বাড়ি কেনার কথা ভাবনাচিন্তা করা উচিৎ। কমপক্ষে ২০% ডাউনপেমেন্ট এবং মাসিক আয়ের ৩০% ইএমআইয়ের জন্য রাখতে হবে।

৩. বাড়ি কেনার মৌলিক বিষয়গুলি ঠিক করে নিন: এমন কিছু এলাকা খুঁজুন যেখানে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। মেট্রো, হাইওয়ে, স্কুল, ব্যবসায়িক অঞ্চলের কাছাকাছি থাকলে বাড়ির দাম বৃদ্ধি পাবে ভবিষ্যতে। রেরা-নিবন্ধিত সম্পত্তি এবং স্বনামধন্য নির্মাতাদের বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ঢুকে পড়ার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি অথবা সম্পত্তি হাতে পেতে অনিশ্চয়তা এড়িয়ে চলুন। এমনকি যদি সেগুলির দাম বেশি হয় তা-ও।

৪. সুদের বিষয় মাথায় রাখুন: নতুন অর্থবর্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি গৃহঋণের হারকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা বিশ্লেষণ করুন। ঋণফেরতের সময় যত বেশি হবে তত বেশি সুদ গুণতে হবে। তবে, যদি আপনার আর্থিক অবস্থা ঠিক থাকে এবং আপনি একটি ভাল সম্পত্তি খুঁজে পান, তাহলে সুদের হার আরও কমার জন্য অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে। সুদের হারের পতনের পরিস্থিতি বাড়ি কেনার জন্য একটি দুর্দান্ত সময় হতে পারে।

৫. কখনও কখনও বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসা যুক্তিসঙ্গত। যেসব ব্যক্তিদের কাজের কারণে ঘন ঘন স্থানান্তর হতে হয় অথবা যাঁরা তাঁদের কেরিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়ে তরুণ পেশাদার, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া নেওয়া বেশি লাভজনক।

ধরা যাক, একটি সম্পত্তির দাম এক কোটি টাকা এবং বার্ষিক ভাড়া সম্পত্তির দামের ৩% এরও কম অর্থাৎ ৩ লক্ষ টাকারও নীচে। এইক্ষেত্রে, ভাড়া একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। সম্পত্তির দামকে বার্ষিক ভাড়া দিয়ে ভাগ করে মূল্য-ভাড়া অনুপাত গণনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি ভাড়া প্রতি বছর আড়াউ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে অনুপাত হবে ৪০ (১,০০,০০,০০০ ভাগ ২,৫০,০০০)। যেহেতু ২৫ এর বেশি অনুপাত ইঙ্গিত দেয় যে সম্পত্তিটির দাম বেশি হতে পারে, এই ক্ষেত্রে ভাড়া আরও সাশ্রয়ী হবে।