আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া ‘সবকা বিমা সবকি রক্ষা বিল, ২০২৫’ এমন এক সময়ে কার্যকর হতে চলেছে, যখন বীমা সংস্থা ও গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। অধিকাংশ বীমা গ্রাহকের কাছে একটি পলিসির আসল মূল্য নির্ধারিত হয় দাবির সময়। আর সেখানেই বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়েন—দাবি মেটাতে দেরি, বারবার নথি চাওয়া, শেষ মুহূর্তে শর্তের অজুহাত বা অস্পষ্ট ব্যাখ্যায় দাবি খারিজ হওয়া।


এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইনটি গ্রাহকদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন একটাই—দাবি দাখিলের পর বাস্তবে কী বদলাবে?


এই আইন মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধন করেছে—ইনশিওরেন্স অ্যাক্ট, ১৯৩৮; এলআইসি অ্যাক্ট এবং আইআরডিএআই অ্যাক্ট। সরকারের দাবি, এর লক্ষ্য হল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বীমার আওতা বৃদ্ধি এবং পলিসিধারীদের সুরক্ষা জোরদার করা।


তবে লক্ষণীয় বিষয় হল, এই আইনে সরাসরি গ্রাহক অধিকার বা দাবি নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা যুক্ত করা হয়নি। বরং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই-এর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তাদের হাতে এখন বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি, কমিশন ও নিয়ন্ত্রণ, বেআইনি লাভ ফেরত আনার নির্দেশ, পলিসিধারীদের ক্ষতির ভিত্তিতে বেশি জরিমানা।

 
আইনটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনেনি। শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে অনৈতিক আচরণ কমাতে পারে, যা পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের উপকারে আসবে। তবে দাবি বা অভিযোগের সময় গ্রাহকের অবস্থান এই মুহূর্তে খুব একটা বদলাচ্ছে না।


আইনটি অবশ্য স্বচ্ছতা বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছে। বীমা সংস্থাগুলিকে এখন পলিসি ও দাবি সংক্রান্ত বিস্তারিত ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে হবে। দাবি খারিজের কারণ ও সময়সীমাসহ সেখানে থাকবে। এই তথ্য নিয়মিতভাবে আইআরডিএআই-এর সঙ্গে ভাগ করতে হবে, ফলে নিয়ন্ত্রকের নজরদারি আরও কার্যকর হবে।


তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবি নিষ্পত্তির সময়সীমা বা জরিমানার বিষয়টি আইনেই নির্দিষ্ট না করাই ছিল সচেতন সিদ্ধান্ত। জীবন, স্বাস্থ্য ও সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে দাবি ভিন্ন হওয়ায় কঠোর আইনি সময়সীমা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারত।


সব মিলিয়ে, নতুন বীমা আইন গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি না আনলেও, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এবার এখান থেকে গ্রাহকরা কতটা সুবিধা পাবেন সেটা এই আইন লাগু হওয়ার পরই বোঝা যাবে। ততদিন পর্যন্ত সকলকে অপেক্ষা করতেই হবে।