আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক কর্মকর্তার পদত্যাগের জেরে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। যার ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ মুছে গিয়েছে। অতনু চক্রবর্তী এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ব্যাঙ্কের কিছু কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায়, নৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এর পরেই বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কটির শেয়ারের দর প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়।

এইচডিএফসি বুধবার গভীর রাতে তাঁর পদত্যাগের কথা প্রকাশ করেছে। তাঁর চিঠিতে অতনু লিখেছেন যে, গত দুই বছরের কিছু ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত নৈতিকতার সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ’ ছিল না। তিনি তাঁর পদত্যাগের অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ জানাননি। পদত্যাগ সম্পর্কে অতনু জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের কার্যকলাপে কোনও অন্যায় হয়নি। তিনি এনডিটিভি প্রফিটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি ব্যাঙ্কের কোনও অন্যায়ের কথা বলছি না। আমার আদর্শ প্রতিষ্ঠানের আদর্শের সঙ্গে খাপ খায়নি।”

এই খবর বাজার ভাল ভাবে নেয়নি। বৃহস্পতিবার শেয়ার ৮.৬৬% কমে ৭৭০ টাকায় নেমে যায়। যা ৫২-সপ্তাহের সর্বনিম্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত এডিআর-এর দাম রাতারাতি ৭%-এর বেশি কমে গিয়েছিল। এই বছর স্টকটির দাম ১৫% কমেছে।

এইচডিএফসি-র প্রাক্তন সিইও কেকি মিস্ত্রি আরবিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে তিন মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ডেপুটি এমডি কাইজাদ ভারুচা অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। কেকি বলেন, “অতনু এবং বোর্ডের মধ্যে কোনও বড় ধরনের মতপার্থক্য ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন যে নৈতিক উদ্বেগের কারণ পরিচালকদের জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকরা এনডিটিভিকে বলেছেন, এই দরপতন হয়তো মাত্রাতিরিক্ত হয়েছে, তবে এটি স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উদ্বেগকেও চিহ্নিত করেছেন। ম্যাকোয়ারি বলেছে যে, যদিও সম্পদের ওপর ভাল মুনাফা-সহ মৌলিক বিষয়গুলি শক্তিশালী রয়েছে, বোর্ড আরও স্পষ্ট নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের উপর চাপ থাকবে। ব্রোকারেজ সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, সিইও শশীধর জগদীশনের পুনঃনিয়োগকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ব্যাঙ্কের শেয়ারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।