আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য গঠিত ৮ম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনা এতদিন মূলত ন্যূনতম বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার কর্মচারী সংগঠনগুলির জমা দেওয়া স্মারকে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব—সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা হবে কি না।


যদিও এগুলি এখনও শুধুমাত্র কর্মচারী সংগঠনগুলির সুপারিশ। কেন্দ্র সরকার এখনও কোনও প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি এবং ৮ম বেতন কমিশনও এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।


সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:১২ করার দাবি
ন্যাশনাল কাউন্সিল স্টাফ সাইড যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের একাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের স্মারকে প্রস্তাব দিয়েছে যে সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:১২-এর বেশি হওয়া উচিত নয়।


সংগঠনের দাবি, এই সীমা নির্ধারণ করা হলে সরকারি কর্মীদের মধ্যে অতিরিক্ত আয়-বৈষম্য কমবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মনোবল বাড়বে এবং সরকার একজন আদর্শ নিয়োগকর্তা হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার বার্তা দিতে পারবে।


তাদের মতে, পে ম্যাট্রিক্সের প্রতিটি স্তরের মধ্যে বেতনের পার্থক্যও যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত, যাতে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে অস্বাভাবিক বেতন বৃদ্ধি না ঘটে।


রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটিরও একই মত
একই ধরনের সুপারিশ করেছে রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার স্যোসাইটি । তাদের বক্তব্য, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে বেশি বেতন দেওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই বেতন কাঠামোর সঙ্গে নিম্ন স্তরের কর্মীদের বেতনের একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত।


সংগঠনটির মতে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান অত্যধিক হলে সরকারি বেতন কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং তা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।


আরও কোন কোন দাবি উঠেছে?
৮ম বেতন কমিশনের কাছে জমা পড়া বিভিন্ন স্মারকে শুধুমাত্র বেতনের অনুপাত নয়, আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি 
ন্যূনতম মূল বেতন বাড়ানো 
বাড়িভাড়া ভাতা সংশোধন 
পরিবহণ ভাতা বৃদ্ধি 
পেনশন সুবিধার উন্নতি 
নতুন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন 


এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নয়
বর্তমানে ৮ম বেতন কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রক, সরকারি দপ্তর এবং কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সমস্ত প্রস্তাব খতিয়ে দেখে কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৮ম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল।

 কমিশনকে গঠনের পর ১৮ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পরই কেন্দ্র সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আপাতত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত নির্ধারণসহ সমস্ত প্রস্তাবই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

&t=1s