আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছর শুরু হয়েছে, ক্রিসমাসের সাজগোজ গুটিয়ে ফেলার সময় এসেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে মানবজাতির জন্য স্বস্তির কোনও বার্তা নেই বলেই দাবি করছেন বিশ্বের নামী-দামি জ্যোতিষী ও মনোবিদরা। তাঁদের মতে, ২০২৬ সাল হতে চলেছে মানবসভ্যতার জন্য আরেকটি কঠিন ও অশান্তির বছর।

এই ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন লন্ডন-ভিত্তিক মনোবিদ ও হিপনোথেরাপিস্ট নিকোলাস অজুলা। ৩৯ বছর বয়সি এই মনোবিদ দাবি করেছেন, তিনি অতীতে কোভিড-১৯ মহামারি, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন, এমনকি কেটি পেরি ও অরল্যান্ডো ব্লুমের বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও আগাম দেখেছিলেন।

অজুলার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বড়সড় ভূকম্পন, হলিউডে মানহানির মামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি   সিনেমার বিস্তার এবং সবচেয়ে আলোচিত- ভিনগ্রহী সভ্যতার সঙ্গে মানুষের প্রথম যোগাযোগ ঘটতে পারে।

এই ‘ভিনগ্রহী যোগাযোগ’-এর ভবিষ্যদ্বাণীতে অজুলা একা নন। একই কথা শোনা যাচ্ছে প্রয়াত বুলগেরিয়ান ভবিষ্যদ্রষ্টা বাবাভাঙ্গা-র নামেও। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর পরও প্রতি বছর তাঁর নামে নতুন নতুন ভবিষ্যদ্বাণী সামনে আসে। ইতিহাস বিষয়ক ওয়েবসাইট History.co.uk অনুযায়ী, বাবাভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী তালিকায় ২০২৬ সালেই নাকি পৃথিবীর সঙ্গে এলিয়েন সভ্যতার প্রথম যোগাযোগ ঘটবে।

এই দাবি উঠে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধূমকেতু 3I/ATLAS নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই একে ভিনগ্রহী প্রযুক্তি বলে সন্দেহ করলেও শেষ পর্যন্ত সেটি নিছক একটি ধূমকেতু বলেই প্রমাণিত হয়।

তবে যাদের মনে সন্দেহ তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এলিয়েন আক্রমণ বা UFO যোগাযোগের ভবিষ্যদ্বাণী প্রায় প্রতি বছরই কোনও না কোনও ভবিষ্যদ্রষ্টার মুখে শোনা যায়। বাবাভাঙ্গার নামেও অতীতে একাধিক ভ্রান্ত এলিয়েন-সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর অভিযোগ রয়েছে। ফলে এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিকোলাস অজুলা অবশ্য নিজের পূর্বাভাসের সাফল্যের দিকটি তুলে ধরে দাবি করছেন, তাঁর রেকর্ড বাবাভাঙ্গার তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন, ২০১৮ সালেই তাঁর কাছে বারবার “ইনফ্লুয়েঞ্জা” শব্দটি ভেসে আসছিল, যা তিনি সাধারণ ‘ফ্লু’ নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর মতে, এই মহামারি মাংস বা পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ২০২১ সালের বসন্ত নাগাদ নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি শেষ হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছে।

২০২৬ সম্পর্কে অজুলার আরও দাবি, ওই বছর মানবজাতি এক ধরনের রহস্যময় রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর পূর্বাভাসে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক পতন এবং অসুস্থতা। উল্লেখ্য, পেরুর কিছু ভবিষ্যদ্রষ্টাও সম্প্রতি ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অজুলা আরও দাবি করেছেন, তিনি ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের উত্থান, ২০১৯ সালে প্যারিসের নটরডেম ক্যাথিড্রালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিতর্কিত ওপরা উইনফ্রে সাক্ষাৎকারও আগাম দেখেছিলেন। যদিও এই দাবিগুলির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দেননি।

তাঁর ২০২৫ সালের ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে ছিল কেটি পেরির দাম্পত্য সমস্যা যা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, কারণ কেটি পেরি ও অরল্যান্ডো ব্লুমের বিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি কেটি পেরি কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্যে এনেছেন।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর এই ভয়াবহ চিত্র আদৌ কতটা বাস্তব, নাকি নিছক কল্পনার ফসল তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।