আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য মন্ত্রিসভায় নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার কোচবিহারে এলেন তুফানগঞ্জের বিধায়িকা তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।
বৃহস্পতিবার তাঁর আগমনকে ঘিরে কোচবিহার শহরজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ করা যায়। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান।
খাগড়াবাড়ি চৌপথি থেকে শুরু হয় বিশাল বাইক মিছিল। শতাধিক কর্মী-সমর্থক মোটরবাইক নিয়ে মিছিলের মাধ্যমে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। দলীয় পতাকা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে পৌঁছয়। সেখানে গিয়ে মন্ত্রী মালতি রাভা রায় পুজো দেন।
পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নতুন দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মানুষের আশীর্বাদ ও দলের নেতৃত্বের আস্থার ফলেই এই সুযোগ পেয়েছি। আমি কোচবিহারসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়নের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।”
তিনি আরও জানান, তুফানগঞ্জ এলাকার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের বিষয়টি তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। “তুফানগঞ্জের ওই ব্রিজের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করব,” বলেন তিনি।
মন্ত্রীকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই কোচবিহার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় শহরের একাধিক অংশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেরও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মদনমোহন মন্দিরে পুজো শেষ করে মালতি রাভা রায় সরাসরি বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে যান। সেখানে জেলা সভাপতি-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ফুলের তোড়া, উত্তরীয় ও শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।
নবনিযুক্ত মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা। এখন নতুন দায়িত্বে তিনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
















