দীক্ষা ভুঁইয়াঃ রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে বড় রদবদল। রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব তথা সমবায় দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজেশ পাণ্ডে (আইএএস, ১৯৯৫ ব্যাচ)-কে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) চেয়ারম্যান পদে ডেপুটেশনে নিয়োগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর (পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস) এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অধীন ডিভিসির চেয়ারম্যান হিসেবে রাজেশ পাণ্ডের নিয়োগ পাঁচ বছরের জন্য অথবা তাঁর অবসর গ্রহণ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
২২ জুলাই, ২০২৬ থেকে রাজেশ পাণ্ডেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল করা হয়। একযোগে, আইপিএস পর্যায়ে বড় রদবদল। আর এই বদলের তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম সুপ্রতীম সরকার। ছিলেন গোয়েন্দাপ্রধান। তাঁকে তুলনায় কম গুরুত্বহীন টেলিকমিউনিকেশন দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেলিকমিউনিকেন দপ্তরের এডিজি পদে বসলেন সুপ্রতীম। তারপর থেকেই নজরে, তাঁর কর্মজীবন।
১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস, কলকাতা ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস সুপ্রতিম সরকার কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি এডিজি দক্ষিণবঙ্গ পদে কর্মরত ছিলেন। এর আগে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক), যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স), ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন বাগুইআটি জোড়া খুন মামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের জেরে তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি দক্ষিণবঙ্গের এডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি কলকাতা পুলিশের ৪৩তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সুপ্রতীমকে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের অবজার্ভার হিসেবে পাঠানো হয়। পরে তাঁকে সিআইডির এডিজি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। আজকের নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে তথা এডিজি টেলিকমিউনিকেশনে পাঠানো হল। মমতা-ঘনিষ্ঠ, একদা রাজীব ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সুপ্রতিম, সেই কারণেই কি এই অপসারণ? প্রশ্ন ঘুরছে পুলিশ মহলেই।
















