আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভালোবাসার বিশেষ দিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে যখন সারা পৃথিবী জুড়ে প্রেমের আবেগে মেতে ওঠে মানুষ, তখন সেই আবহে নিজেদের মতো করে দিনটি উদযাপন করলেন বীরভূম জেলার দুবরাজপুর ব্লকের কুরালজুড়ি গ্রামের পরিচিত মুখ ভুবন বাদ্যকর ও তাঁর স্ত্রী আদরী বাদ্যকর। সহজ সরল জীবনযাপন ও পারস্পরিক ভালোবাসার বার্তা দিয়ে এই দম্পতি আবারও নজর কেড়েছেন অনুগামীদের। তাঁদের এই বিশেষ মুহূর্ত ধরা পড়েছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে'র দিন।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে মূলত প্রেম, ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধনকে উদযাপন করার দিন হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। এই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে উপহার, ফুল বা বিশেষ চমক দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। আধুনিক সময়ে এই দিনটি একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠলেও প্রত্যেক মানুষের উদযাপনের ধরন আলাদা। আর সেই ভিন্নতারই এক সুন্দর উদাহরণ তুলে ধরেছেন কাঁচা বাদাম খ্যাত শিল্পী ভুবন বাদ্যকর ও তাঁর স্ত্রী।
প্রেমের সপ্তাহে স্ত্রীকে কী উপহার দিয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ভুবনবাবু তাঁদের জীবনের আধ্যাত্মিক দিকটি সামনে আনেন। তাঁর কথায়, এই সময় তাঁদের একাদশী চলছিল। তাই পার্থিব উপহারের চেয়ে ধর্মীয় আচার, সংযম ও ভক্তিকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। দিনের শুরুতেই তাঁরা ধর্মীয় নিয়ম মেনে সময় কাটান। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে তাঁদের সম্পর্কে ভালোবাসা শুধুমাত্র বাহ্যিক উপহার বা জাঁকজমকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
উপহার প্রসঙ্গে ভুবন বাদ্যকরের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সহজ ও হৃদয়স্পর্শী। তাঁর মতে, আলাদা করে মূল্যবান কিছু দেওয়ার চেয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে স্ত্রীকে পাশে রাখা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি যেখানে যান, বাজার হোক বা কোনও ভ্রমণ, সব জায়গাতেই আদরী দেবী তাঁর সঙ্গী হয়ে থাকেন। এই সঙ্গ ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকেই তিনি তাঁদের সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি বলে মনে করেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি সম্মান ও সমর্থনই তাঁদের সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে।
স্বামীর মুখে নিজের প্রতি ভালোবাসার কথা শুনে আদরী বাদ্যকর লজ্জায় মুখ নামিয়ে নেন। সাধারণ গ্রামীণ গৃহবধূর মতো তিনি ক্যামেরার সামনে বেশি কথা বলতে চাননি। তবে তাঁর নীরব উপস্থিতি এবং স্বামীর প্রতি তাঁর আন্তরিক সমর্থন তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা স্পষ্ট করে দেয়। ভুবন বাদ্যকর যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছেন, তখনও আদরী দেবী নিঃশব্দে তাঁর পাশে থেকেছেন, যা তাঁদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভুবন বাদ্যকর তাঁর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ভাইরাল হওয়া কাঁচা বাদাম গানের মাধ্যমে। সেই জনপ্রিয়তার পরেও তাঁর জীবনযাত্রায় খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও পারিবারিক বন্ধন এখনও তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে রয়েছে। এই দম্পতির জীবনযাপন আজকের আধুনিক সমাজে এক আলাদা বার্তা দেয়। যেখানে ভালোবাসা মানে শুধুমাত্র দামী উপহার নয়, বরং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও সঙ্গ।
দিনের শেষে ভুবন বাদ্যকর আধ্যাত্মিক আবেগে জয় রাধে ধ্বনি উচ্চারণ করে তাঁদের ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, সম্পর্কের আসল শক্তি নিহিত থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার মধ্যে। বীরভূমের এই দম্পতির গল্প আবারও প্রমাণ করে যে প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায় সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যেই, যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে মনের টান অনেক বেশি মূল্যবান।
