আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপে বৃহস্পতিবার এক বিরল প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাগর দ্বীপের মহিষামারি এলাকায় হুগলি নদীর উপর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এক সঙ্গে দু’টি টর্নেডোর মতো জলস্তম্ভ তৈরি হতে দেখা যায়। নদীর বুক থেকে ঘূর্ণায়মান জলরাশি দ্রুত আকাশের দিকে উঠে যেতে দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয় স্থানীয় বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং নদীপথে চলাচলকারী নৌকাচালকদের মধ্যে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে নদীর মাঝখানে জল ঘুরপাক খেতে শুরু করে। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই ঘূর্ণন তীব্র আকার ধারণ করে জলস্তম্ভের রূপ নেয়। আশ্চর্যের বিষয়, একটির কিছু দূরেই আরও একটি ঘূর্ণায়মান জলস্তম্ভ তৈরি হয়। জোড়া টর্নেডোর এই বিরল দৃশ্য দেখে অনেকেই মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। কেউ কেউ আবার ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, এমন দৃশ্য তাঁরা খুব কমই দেখেছেন। তাঁদের কথায়, নদীর জল আচমকা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠতে থাকে এবং বাতাসের গতি মুহূর্তের মধ্যে বেড়ে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নদীতে থাকা ছোট নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলারগুলিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়। অনেক ট্রলার মাঝনদী থেকে ঘাটের দিকে ফিরে আসে।

জোড়া টর্নেডোর দৃশ্য কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও তার পরপরই আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় প্রবল দমকা হাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাগর দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি নেমে আসে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় জনজীবনে সাময়িক প্রভাব পড়ে। নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন বিশেষভাবে সতর্ক হয়ে পড়েন।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র ও নদী সংলগ্ন অঞ্চলে জলীয় বাষ্প, তাপমাত্রার পার্থক্য এবং বায়ুচাপের পরিবর্তনের কারণে কখনও কখনও এই ধরনের জলস্তম্ভ বা ওয়াটারস্পাউট তৈরি হতে পারে। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে এটি টর্নেডো হিসেবেই পরিচিত। এমন ঘটনা বিরল হলেও উপকূলবর্তী অঞ্চলে মাঝে মাঝে দেখা যায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নদীপথে যাতায়াতকারী নৌকা, ট্রলার এবং মৎস্যজীবীদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলতে বলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে সাগরের বুকে এই বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য ঘিরে দিনভর চর্চা চলেছে স্থানীয় মহলে।