মিল্টন সেন, হুগলি: 'শুধু কালিকে ধরলে হবে না। সঙ্গে কলম-দোয়াত সকলকেই ধরতে হবে।' নাম না করে ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করলেন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর পাশাপাশি চন্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকর, চাঁপদানীর প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন এবং তাঁর ছায়াসঙ্গী সন্তোষ সিং ওরফে পাপ্পু, সাংসদ রচনা, বিধায়ক ঋতব্রত-সহ একাধিক তৃণমূল নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে।
তৃণমূল কংগ্রেসের যাঁরা তোলা তুলেছেন তাঁদের ধরতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সমর্থন করেছেন কল্যাণ। ফের বিস্ফোরক অভিযোগ কল্যাণ ব্যানার্জির। শনিবার হুগলি জেলা সভাপতি অসিত মজুমদারের ডাকে ২১ জুলাই প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত হয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি আরও বলেন, 'প্রচুর তোলা তুলেছে! ২০০৯ ভাঙাচোরা ঘর ছিল। এখন দেখুন বিরাট বড় প্রাসাদ হয়ে গেছে। বেডরুম থেকে ওয়াশিং রুম, ফাইভ স্টার হোটেলকেও হার মানাবে। স্নেহাশিসের সঙ্গে যারা থাকত, তারা এত টাকা কামিয়েছে, এখন বলছে আর তৃণমূল করি না।'
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে কল্যাণ আরও বলেন, 'আপনি যে বলেছেন তৃণমূলের যারা যারা চুরি করেছে মাল কামিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করবেন, এতে আমার সমর্থন আছে। ঋতব্রতর সঙ্গে যারা গিয়েছে আগে তাদের দেখুন। সব চোরগুলো গিয়েছে। চোরের সঙ্গে চোর মিলেছে তবেই না বিক্ষুব্ধ তৃণমূল তৈরি হয়েছে। এরা প্রচুর মাল কামিয়েছে। প্রথম ভেবেছিল বিজেপিতে যাবে। বিজেপি এখন নেবে না। তার জন্য এখন একটা বিজেপির বি ব্লক তৈরি করেছে। এখানে হচ্ছে ঋতব্রত ব্যানার্জির বি ব্লক। আর দিল্লিতে হয়েছে এনডিএ বি ব্লক। বাঁচার জন্য এসব করা হয়েছে। চিন্তা করবেন না, ওদের সঙ্গে মানুষ নেই। তাই একটাও কর্মী মিটিং করতে পারেনি।'
সাংসদ রচনার প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন, 'তিনি এখন বলছেন হুগলির ডেভেলপমেন্টের জন্য তিনি তৃণমূল বি টিমে গিয়েছেন। হুগলির মানচিত্র কোথা থেকে কতটা সেটাই তিনি জানেন না। তিনি বলেছেন শুধু দল নয় তাঁর ফেস ভ্যালুর জন্য তিনি জিতেছেন। তিনি দিদি নম্বর ওয়ান করতেন বলে মানুষ একটু তাঁর প্রতি উৎসাহী ছিল। এখন সেই দিদি নম্বর ওয়ানও তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন তিনি বলছেন তাঁর সঙ্গে ঠিক করা হয়নি। তিনিও দলের সঙ্গে ঠিক করেননি, সেটা এবার বুঝতে শিখুন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলব আমাদের নয়, সব চোর ডাকাত যাঁরা ঋতব্রতর দলে ঢুকে গিয়েছেন, তাঁদের ধরুন।'
ছবি পার্থ রাহা।















