দেশজুড়ে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভুয়ো লোন অ্যাপ-সহ মোট ৩,৭১৮টি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্লক করা হয়েছে বলে লোকসভায় জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
2
11
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সিটিজেন ফাইনান্সিয়াল সাইবার ফ্রড রিপোর্টিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ১১,১৫৮ কোটিরও বেশি টাকা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে এই ব্যবস্থায় ৩২.৮০ লক্ষ সাইবার অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
3
11
এর মাধ্যমে কোনও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট গেটওয়ে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করা হয়। এর ফলে সন্দেহজনক লেনদেন বন্ধ বা সংশ্লিষ্ট অর্থ ফ্রিজ করার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
4
11
সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও কড়া পদক্ষেপ করেছে সরকার। এই ধরনের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণার টাকা একাধিক ধাপে সরিয়ে ফেলা বা লুকিয়ে রাখা হয়।
5
11
এখনও পর্যন্ত ৩২.০৮ লক্ষ সন্দেহভাজন মিউল অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হওয়া প্রায় ২৫,৬৯৮ কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে।
6
11
এছাড়াও সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ১৫.৭৫ লক্ষ মোবাইল সিম এবং ৫.৭৭ লক্ষ আইএমইআই নম্বর ব্লক করা হয়েছে। এর ফলে প্রতারকদের ভুয়ো সংযোগ এবং সন্দেহজনক ডিভাইস ব্যবহার করে অপরাধ চালানো আরও কঠিন হবে।
7
11
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দুটি নতুন মডিউলও চালু হয়েছে। সেগুলি হল মানি রিস্টোরেশন মডিউল এবং গ্রিভান্স রিড্রেসল মডিউল। প্রথমটির মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া টাকা দ্রুত ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরানোর প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়টি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অভিযোগগুলির অগ্রগতি নজরদারি করতে সাহায্য করবে।
8
11
এনসিআরপি মাধ্যমে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ভুয়ো বিনিয়োগ, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, সেক্সটরশন, পরিচয় চুরি, সোশ্যাল মিডিয়া অপরাধ, অনলাইন ব্ল্যাকমেল এবং ভুয়ো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ জানানো যায়। আর্থিক সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে ১৯৩০ হেল্পলাইনেও যোগাযোগ করা যায়।
9
11
পাশাপাশি এসএমএস, টেলিভিশন, রেডিও, সোশ্যাল মিডিয়া, রেল স্টেশন, বিমানবন্দর, স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারও বাড়ানো হয়েছে।
10
11
ডিজিটাল পেমেন্ট, ইউপিআই এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুয়ো লোন অ্যাপ, ওটিপি প্রতারণা, ফেক কেওয়াইসি, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার এবং ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো অপরাধও বেড়েছে।
11
11
তাই সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু ভুয়ো অ্যাপ বন্ধ করা নয়, বরং সাইবার অপরাধীদের ডিজিটাল ও আর্থিক পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং প্রতারিতদের টাকা উদ্ধারের সুযোগ বাড়ানো। এই কাজটি আগামীদিনেও চলবে বলে খবর মিলেছে।