আজকাল ওয়েবডেস্ক: জল্পনা গত কয়েকদিনের। সেই জল্পনার কি অবসান আজই? তৃণমূলের কাকলি ঘোষ দস্তিদার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে পৌঁছতেই, জল্পনা এই মুহূর্তে বেড়েছে কয়েকগুণ।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে তিনি কল্যাণীতে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে হাজির হয়েছেন। তাহলে কি আজই ফুলবদল? যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, তাঁর কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সঙ্গে কোনও দলীয় যোগাযোগ নেই। এটি নেহাতই প্রশাসনিক কর্মসূচি। সেই কারণেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
মূলত, এদিন কল্যাণীতে তিন জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায়-নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা। এই তিন জেলার পর্যালোচনায় প্রশাসনিক বৈঠক। সাংসদ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার উপস্থিত হয়েছেন সেই হিসেবেই, দাবি তেমনটাই।
যদিও গত কয়েকদিন ধরেই, কাকলির একাধিক পদক্ষেপ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট জল্পনা বাড়াচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি তাঁকে লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো দিনে পাশে থাকার স্মৃতি উসকে দিয়েছিলেন। তারপরেই, বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে রইস্তফাও দিয়েছেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিলই, রবিবার সেই জল্পনা বাড় একয়েকগুণ। মধ্যমগ্রামে দলের জেলা কার্যালয়ে এক আকস্মিক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে আনেন।
পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলের ভেতরের একাংশের বিলাসবহুল বৈভব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং ভোটের কাজে পেশাদার 'ভোট কুশলী' সংস্থার খবরদারি নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ। দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো তাঁর খোলা চিঠিটি একপ্রকার বিস্ফোরক বললেও ভুল হয় না। সেখানে তিনি লিখেছেন,- "পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, শিষ্টাচার, এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব, মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আদর্শনিষ্ঠা ও মানবিক রাজনীতির মাধ্যমেই সমাজে আস্থা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলে আমার মনে হয়। এই বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার নৈতিক দায় নিয়ে আমি বারাসাত জেলা সংসদীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাই। নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো সৎ, নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভূঁইফোড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।"















