আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যজুড়ে চলছে রাজ্য সরকারের তরফে বেকার যুবকদের ভাতা দেওয়ার জন্য 'যুবসাথী' প্রকল্পে আবেদনপত্র গ্রহণের কাজ। রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি যা শুরু হয়েছে।
কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র চলছে এর কাজ। লম্বা লাইনে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেকাররা। একে একে জমা দিচ্ছেন আবেদন পত্র। এই আবেদনকারীদের তালিকায় একদিকে যেমন রয়েছেন অল্প শিক্ষিত যুবক, তেমনি রয়েছেন উচ্চ শিক্ষিত তরুণরাও।
স্নাতকোত্তর থেকে ডক্টরেট, অনেকেই দাঁড়িয়েছেন এই ভাতার জন্য আবেদন করতে। যা দেখে সমালোচনা করে বিজেপি কটাক্ষ করে জানাচ্ছে, বাংলার বেকারত্বের হাল কী অবস্থায় পৌঁছেছে তা দেখিয়ে দিচ্ছে এই 'যুবসাথী'।
সোমবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র আইনজীবী দেবজিৎ সরকার বলেন, "যুবসাথী দেখিয়ে দিচ্ছে রাজ্যে বেকাররা কতটা করুন অবস্থায় আছেন! কত বেকার এই রাজ্যে আছেন এবং সেই তালিকায় কত উচ্চশিক্ষিত যুবকরাও আছেন তা এই যুবসাথীর আবেদনকারীদের দেখে লোকে জানতে পারছেন। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে সরকারের ভাঁড়ে তো মা ভবানী। টাকাটা কীভাবে দেবে!"
দেবজিতের অভিযোগ, "রাজ্য সরকারের ঘোষিত এই প্রকল্পের দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের লোকেরা আবেদনপত্র জমা নিচ্ছেন। কেন জমা নেওয়ার পর কোনও 'রিসিপ্ট' দেওয়া হচ্ছে না? আসলে গোটা বিষয়টি বেকারদের ভাঁওতা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।"
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের নিজস্ব সমাজ মাধ্যমে এই প্রকল্পটি তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি বেকারত্বের এই চিত্র রাজ্যকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। দেবজিতের কথায়, "তৃণমূল একে 'বাহাদুর' বলে দেখাচ্ছে। কিন্তু বেকারত্বের এই হারের জন্য রাজ্যের মাথা লজ্জায় হেঁট হয়ে গেল।"
বিজেপির এই অভিযোগের উত্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও দলীয় মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা সি এম আই ই'র রিপোর্ট বলছে ৪৫ বছরে দেশে বেকারত্বের হার শীর্ষে পৌঁছেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায়। বেকার যুবকদের তো লাইনেই দাঁড়াতে হত না যদি নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি মতো বছরে দেশে দু'কোটি চাকরি হত। তিনি তো কিছু করেননি বরং উল্টে ৭৬টা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করে দেশে আরও বেকার সৃষ্টি করেছেন। সমস্ত জায়গায় বিলগ্নিকরণ হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে কর্মী ছাঁটাই চলছে। এখানে মমতা ব্যানার্জির সরকার যে বেকার বা উৎসাহ ভাতা চালু করছেন সেটা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মডেল। কারণ, আমেরিকা বা সুইৎজারল্যান্ডের মতো দেশেও বেকার ভাতা দেওয়া হয়। এটা রাষ্ট্রের একটা মানবিক দায়িত্ব। এখানে মমতা ব্যানার্জির হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা নেই। তিনি তাঁর সীমাবদ্ধ ক্ষমতায় রাস্ট্রের মানবিক দায়িত্বের দিকটি আলোকপাত করেছেন। বিজেপি ১৫ লক্ষ টাকা দেবে বলে জুমলা দেয়। মমতা ব্যানার্জি বেকারদের পাশে দাঁড়িয়ে যুবসাথীর ভাতা দেন।"
