আজকাল ওয়েবডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গে চলতে থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী (এসআইআর)-র কাজে গাফিলতির অভিযোগে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমশেরগঞ্জ, ফারাক্কা, ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং পূর্ব এবং ডেবরা বিধানসভার মোট সাত জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী। সাসপেন্ড হওয়ার পরেই তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দাবি, তিনি কোনও দোষ করেননি। গোটা ঘটনায় রীতিমতো জল্পনা শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

রবিবার নোটিস জারি করে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্ত এইআরও-দের সাসপেন্ড করার জন্য। রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষা না করে সোমবার সাত জনকে নিজেই সাসপেন্ড করে দেয় নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই এদিন ডালিয়াকে ডেকে পাঠিয়েছিল জলপাইগুড়ির জেলাশাসক।

ময়নাগুড়ি বিডিওকে সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন ডালিয়া। ময়নাগুড়ি নারী উন্নয়ন আধিকারিক পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। জেলাশাসকের দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তরে ডালিয়া দাবি করেন যে, তিনি যা করেছেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে করেছেন। কোনও অন্যায় কাজ করিনি। কেন কমিশন তাঁকে সাসপেন্ড করেছে তা তিনি জানেন না।

ডালিয়া বলেন, “উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী কাজ করেছি। তারা আমাকে সঠিক নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমি সঠিক ভাবে কাজ করেছি। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।” কেন সাসপেন্ড করা হয়েছে প্রশ্ন করতেই তিনি আর বলেন, “এটা ওনারাই বলতে পারবেন।”

ডালিয়া ছাড়াও যে ছ’জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁরা হলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার দুই AERO সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডু, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের AERO শেফাউর রহমান, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার AERO নীতীশ দাস, মালদার সুতির AERO শেখ মুর্শিদ আলম। আছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার AERO দেবাশিস বিশ্বাসও। কমিশন রাজ্যকে কোনও বিলম্ব না করে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনের নির্দেশ দিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বাধ্যতামূলক অবসরগ্রহণ, কোনও সরকারি চাকরিতে ভবিষ্যতে নিয়োগের সুযোগ ছাড়াই বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।