আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিঘা রুটে ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ চালুর বিরাট ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সৈকত শহরের পর্যটন পরিকাঠামোয় আমূল বদল আনতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে তার আগে বড় চ্যালেঞ্জ নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত রেললাইনের ডবলিং বা জোড়া লাইনের কাজ। রেলওয়ে বোর্ড এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিলেও, মূল সমস্যা আটকে রয়েছে জমি অধিগ্রহণে।
দিঘায় একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিঘা থেকে বন্দে ভারত চলা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তার জন্য রেলের পরিকাঠামো মজবুত করা দরকার। নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত ডবল রেললাইন বসানোই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তা না হলে বন্দে ভারত চলবে কী করে?”
রেল সূত্রের খবর, একক লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণেই এই ব্যস্ত রুটে ট্রেনের গতি ও সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেলমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে।
জেলাশাসকের উপস্থিতিতেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, রেলওয়ে বোর্ড বহু আগে অনুমোদন দিলেও জমি জটের কারণে কাজ থমকে ছিল। এবার রাজ্য সরকার তৎপরতার সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় সারা বছরই কলকাতা, হাওড়াসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং প্রতিবেশী রাজ্য থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম হয়। উইকএন্ডে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় রেলকে।
ডবল লাইন হলে ট্রেন লেট করার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে। বন্দে ভারতের মতো আধুনিক, গতিশীল ও আরামদায়ক ট্রেন চালু হলে দিঘার পর্যটন ব্যবসা এক ধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
রেল প্রকল্পের এই দেরির জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দেশের অন্যান্য উপকূলবর্তী শহর রেল যোগাযোগের নিরিখে অনেক উন্নত হলেও, দিঘা পিছিয়ে পড়েছে আগের সরকারের ‘নেতিবাচক’ মনোভাবের কারণে।
রেল বারবার জমির দাবি করলেও আগের সরকার তাতে কান দেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। বর্তমান সরকার সমস্ত জট কাটিয়ে এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ দিন পূর্ব মেদিনীপুরের সার্বিক রেল পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৪ একর জমি ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে এসেছে এবং সেই কাজ শেষ। বাকি মাত্র ৬ একর জমি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাশাপাশি, রানাঘাট রুটেও ভবিষ্যতে বন্দে ভারত চলার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। রানাঘাট-কল্যাণী এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর লাইনে তৃতীয় ট্র্যাক বসানোর কাজ শেষ হলেই ওই রুটেও দ্রুতগতির ট্রেন ছোটানো সম্ভব হবে।
তবে আপাতত রেলের পাখির চোখ নন্দকুমার-দিঘা ডবল লাইনের দিকেই। জমি জট কেটে কত দ্রুত এই কাজ শেষ হয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে দিঘাবাসীর ‘বন্দে ভারত’-এর স্বপ্নপূরণ।















