আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারের 'গজ-গৌরব' সম্মান পাচ্ছেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সাতজন মাহুত। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক থেকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। হাতি সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযানে অসামান্য অবদানের জন্য এই সম্মান দেওয়া হবে।
আগামী ১৩ আগস্ট অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ‘বিশ্ব হাতি দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেওয়া হবে জলদাপাড়ার সাতজন মাহুত-কে। ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট’-এর বিজ্ঞানী আজু ম্যাথিউ বুধবার জলদাপাড়ার প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক এবং বিভাগীয় বন আধিকারিককে এই পুরস্কারের বিষয়টি জানান।
পুরস্কার পাচ্ছেন, বিকাশ খেরিয়া, রাজীব ওরাওঁ, আজিবুল হক, অজিত গাবুর, মমতাজ আলম, আমাসুর খেরিয়া এবং দিলীপ মুন্ডা।
‘গজ গৌরব’ পুরস্কারের মাধ্যমে কুন্কি হাতি পরিচালনায় দৃষ্টান্তমূলক কাজের স্বীকৃতি এবং হাতি সংরক্ষণে অসাধারণ অবদানের জন্য বনকর্মী, মাঠ পর্যায়ের আধিকারিক, ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধায়ক ও হাতি মালিকদের সম্মানিত করে।
গত অক্টোবরে জলদাপাড়ায় ভয়াবহ বন্যার সময় পাঁচটি পোষা হাতি ও একটি শাবককে উদ্ধার ও রক্ষা করেছিলেন বিকাশ খেরিয়া এবং রাজীব ওরাওঁ। সেই অসামান্য সাহসি কাজের জন্য এই দু'জন মাহুতকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
জলদাপাড়া পার্কের কোডালবস্তি রেঞ্জের এনইসি বিটে কর্মরত এই দুই মাহুত তোর্সা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। এর ফলে ওই এলাকাটি নিকটবর্তী বন অফিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খাবার বা পানীয় জল ছাড়া সারাদিন আটকে থাকার পরেও তাঁরা হাতিগুলোকে ছেড়ে যাননি এবং সংকটের পুরো সময়টা প্রাণীগুলোর সঙ্গেই ছিলেন। বন্যার জল ধীরে ধীরে নেমে গেলে তাঁরা সবচেয়ে নিরাপদ পথটি বেছে নেন এবং শাবক-সহ ছয়টি হাতিকেই উঁচু জায়গায় নিয়ে যান। প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
বাকি পাঁচজন পুরস্কারপ্রাপককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে গত বছর আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় বন্যার সময় দেশের অন্যতম বৃহত্তম বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযানে তাঁদের ভূমিকার জন্য।
তোর্সা নদীর অববাহিকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে জলদাপাড়া এবং সংলগ্ন বনাঞ্চলগুলিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছিল তেরোটি এক-শৃঙ্গ গণ্ডার। এর মধ্যে পাঁচটি আলিপুরদুয়ার জেলার লোকালয়ে চলে আসে এবং আটটি ভেসে যায় কোচবিহারের দিকে। যা জাতীয় উদ্যানের সীমানা থেকে ১০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে।
আটকে পড়া গণ্ডারদের খুঁজে বের করা, তাদের জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনে পশুচিকিৎসা দলের সহায়তায় তাদের চেতনানাশক প্রয়োগ ও স্থানান্তরের কাজে ঊনিশটি প্রশিক্ষিত পোষা হাতি ও তাদের মাহুতরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বন বিভাগের ২০০-রও বেশি কর্মী ওই ঊনিশটি প্রশিক্ষিত হাতির সহায়তায় ৫৫ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় এই উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
বন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মাহুতদের সাহস, নিষ্ঠা এবং অসাধারণ দক্ষতার কারণেই এই উদ্ধার অভিযানে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। হাতিদের আচরণ, দুর্গম ভূখণ্ড এবং বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের গভীর বোঝাপড়া পোষা হাতি ও আটকা পড়া গণ্ডার- উভয়েরই প্রাণ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ভূমিকার জন্য বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁও মাহুতদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “আমাদের বিভাগ এই নিবেদিতপ্রাণ মাহুতদের নিয়ে গর্বিত। হাতিদের সঙ্গে তাঁদের গভীর আবেগের সম্পর্ক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রতি তাঁদের অটল নিষ্ঠা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
















