বিউ সরকার: নিট বিতর্ককে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রভাব পড়ছে রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও। সম্প্রতি কলকাতায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

এ বার তার প্রতিবাদে পাল্টা পথে নামছে 'সংঘ' পরিবারের শিক্ষা সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার কলকাতার রাজপথে শক্তিপ্রদর্শনের লক্ষ্যে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। 

শিয়ালদা থেকে মৌলালি হয়ে এস. এন. ব্যানার্জি রোড হয়ে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং-এ পৌঁছবে মিছিল। জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল হবে৷ 

উল্লেখ্য, সোমবার উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল ‘তিরঙ্গা যাত্রা’। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে মৌলালি, এস.এন. ব্যানার্জি রোড হয়ে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তথা মানিকতলা কেন্দ্রের বিধায়ক তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ, বিধায়ক বিজয় ওঝা, উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ দলের বিভিন্ন মণ্ডল, মহিলা মোর্চা, কিষাণ মোর্চা এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক।

মিছিল প্রসঙ্গে বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ দাবি করেন, ‘একই রুটে আগে যে মিছিল হয়েছিল, তার তুলনায় দ্বিগুণ মানুষের উপস্থিতি হয়েছে আমাদের কর্মসূচিতে।’

মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বিজেপি কর্মীর হাতে আরশোলা মারার স্প্রে দেখা যায়। এই বিষয়ে তাঁদের দাবি, এটি প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁদের কথায়, ‘এই স্প্রে দিয়ে আরশোলার মতো দেশদ্রোহীদের সরিয়ে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সমাজে তাদের কোনও জায়গা নেই।’

অন্যদিকে, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘রাজ্যে এত দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কখনও পদত্যাগ করেননি। অথচ আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নৈতিক দায় স্বীকার করে ইস্তফা দিয়েছেন।’

তাপস রায়ের বক্তব্য, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসিত পোস্টার ছড়ানো হচ্ছে। বাংলার মাটিতে, দেশের মাটিতে এসব চলবে না। সে কারণেই আমরা রাজপথে।’