আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলম ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন। পাঁচ বছরের নিরন্তর লড়াই, মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের পুরস্কার হিসেবে এবার সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হলেন বিজেপির জগন্নাথ চ্যাটার্জি। একসময় যিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অন্দরমহলকে প্রশ্নের মুখে ফেলতেন, মানুষের সমস্যা তুলে ধরতেন প্রশাসনের সামনে, সেই তিনিই আজ মানুষের প্রত্যক্ষ রায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
বাংলার সাংবাদিকতা জগতের পরিচিত মুখ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পদার্থবিদ্যায় পড়াশোনা করা এই সাংবাদিক পেশাগত জীবনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন। তবে শুধুমাত্র সাংবাদিকতার গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখেননি তিনি। মানুষের সমস্যা ও উন্নয়নের প্রশ্নকে আরও সরাসরি লড়াইয়ের পর্যায়ে নিয়ে যেতে ২০২১ সালে কর্মজীবন থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিউড়ি কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জগন্নাথ চ্যাটার্জি। সে সময় তৃণমূল প্রার্থী বিকাশ রায়চৌধুরীর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও রাজনৈতিক ময়দান ছাড়েননি তিনি। বরং পরাজয়কে শক্তিতে পরিণত করে পরবর্তী পাঁচ বছর সিউড়ি বিধানসভা এলাকায় নিরন্তর জনসংযোগ, সংগঠন বিস্তার এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।
কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও সিউড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন। রেল মন্ত্রকের কাছে একাধিকবার দরবার করে দীর্ঘদিন থমকে থাকা হাটজনবাজার রেল ওভারব্রিজ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, সিউড়ি-শিয়ালদহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মেমু এক্সপ্রেস ট্রেনের ব্যবস্থা করা, সিউড়ি রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ ত্বরান্বিত করা এবং সিউড়ি থেকে রাজনগর হয়ে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত সম্ভাব্য রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক অনুমোদন আদায়ের মতো একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিশ্রমেরই প্রতিফলন দেখা গেল। সিউড়ি কেন্দ্রের তৃণমূলের শক্তিশালী প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সিউড়ির নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই জয় শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করে যাওয়ার স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।
বীরভূমের রাজনীতিতে এ বার বিজেপির সবচেয়ে চর্চিত মুখগুলির অন্যতম ছিলেন জগন্নাথ চ্যাটার্জি। সিউড়িতে জগন্নাথের বিপুল জয় বিজেপির সংগঠনগত শক্তিকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আজ রাজ্যের মন্ত্রিসভায়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। যদিও জগন্নাথ নিজে বারবার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় মানুষের আস্থা এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা।
এখন সিউড়ির মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন ধরে যে উন্নয়নের স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, বিধায়ক হিসেবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নই হবে তাঁর আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ভোটের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিউড়ির মানুষ তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন। আর সেই ভরসার জোরেই সাংবাদিক থেকে জননেতা হয়ে ওঠার এক অনন্য অধ্যায় রচনা করলেন জগন্নাথ চ্যাটার্জি। আর এবার তো হতে চলেছেন মন্ত্রী, তাই সিউড়ি তথা বীরভূমের মানুষের প্রত্যাশা, তাঁর প্রতি আরও বাড়ল এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।















