আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে চলতে থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী (এসআইআর)-র কাজে গাফিলতির অভিযোগে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড করল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার অভিযুক্ত সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নোটিস দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু রাজ্যের পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা না করে ওই আধিকারিকদের নিজেই সাসপেন্ড করল কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমশেরগঞ্জ, ফারাক্কা, ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং পূর্ব এবং ডেবরা বিধানসভার মোট সাত জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি এবং ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই না করেই সেসব নথি আপলোড করেছেন এই ৭ আধিকারিক। ভোটারদের ম্যাপিংয়ে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও, সংশোধনমূলক কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছড়াও কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে।
সোমবার কমিশন তার নির্দেশে বলেছে, “১৯৫০ সালের আরপি আইনের ১৩সিসি ধারার অধীনে তার ক্ষমতা ব্যবহার করে, ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের সাত জন আধিকারিককে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং এসআইআর সম্পর্কিত আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
যে সাত আধিকারিককে SIR-এর কাজ থেকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন, তাঁরা হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার দুই AERO সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির AERO ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের AERO শেফাউর রহমান, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার AERO নীতীশ দাস, মালদার সুতির AERO শেখ মুর্শিদ আলম। আছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার AERO দেবাশিস বিশ্বাসও।
কমিশন রাজ্যকে কোনও বিলম্ব না করে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনের নির্দেশ দিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বাধ্যতামূলক অবসরগ্রহণ, কোনও সরকারি চাকরিতে ভবিষ্যতে নিয়োগের সুযোগ ছাড়াই বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।
