আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ফের ভোটার তালিকার সংশোধনীর কাজ নিয়ে বড়সড় গাফিলতি সামনে এল। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর)-এর আওতায় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ ভোটারের নাম নথিভুক্তি ও তথ্য যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। এই বিপুল পরিমাণ কাজ বাকি থাকায় প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কাজের গাফিলতির অভিযোগে একাধিক জেলার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাডিশনাল ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-দের শোকজ নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এত বড় সংখ্যক তথ্য যাচাই বাকি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইআরও এবং এইআরও আধিকারিকদের গাফিলতির কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন অর্থাৎ ডিইও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি নজরদারি করতে। কোনও অবস্থাতেই কোনও গাফিলতি ক্ষমা করা হবে না। এখন দেখার, শোকজ নোটিশের পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জবাব কতটা সন্তোষজনক হয় এবং নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়। রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে পরিস্থিতি যে আগামী দিনে আরও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে, তৃণমূল একের পর এক অভিযোগ এনে চলেছে কমিশনের বিরুদ্ধে। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। মূলত রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ হওয়া রোল অবজারভার মুরগানের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি তালিকা প্রকাশের পূর্বেই নাম বাদ যাওয়া এবং ERO ও AERO আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা নিয়ে ও কঠিন আইনি পদক্ষেপ নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন এই প্রতিনিধি দল। রোল অবজারভারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তরে এবং সেখানে গিয়ে একাধিক অভিযোগ জানিয়ে দেখা করে কথা বলেন সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে।
মন্ত্রী ব্রাত্য বসু আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারিতা করছে। নিজেদের ইচ্ছামতো যা খুশি তাই করে চলেছে। নিয়মবহির্ভূত কাজ করে চলেছে কমিশন। সবটাই করছে বিজেপির মদতপুষ্ট হয়ে। কোন কিছু করেই লাভ হবে না। মানুষ বুঝতে পেরেছে। ভোটেই তার উত্তর দেবে জনগণ।”
তৃণমূল মুরুগানকে সাসপেন্ডের দাবি জানালেও কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাঁকে কোনও ভাবেই সাসপেন্ড করা যাবে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করছেন। তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে শাসকদল তৃণমূল ও রাজ্য প্রশাসনের কাছ থেকে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা ভিত্তিক জনজাতি, তফসিলি (এসসি), আদিবাসী এবং বিভিন্ন আশ্রমের আবাসিকদের তথ্য সংগ্রহে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রতিটি জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে বিস্তারিত পরিসংখ্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর সংগৃহীত তথ্য একত্রিত করে দুপুর ২টোর মধ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে। জেলাভিত্তিক ডিইও অর্থাৎ জেলাশাসকদের আবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
