আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
তিনি জানান, দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে মাইক্রো অবজারভারদের শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং শুরু হয়েছে।
মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই শোকজ নোটিস জারি করা হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত চিঠি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
সিইও আরও জানান, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে নির্বাচন কমিশন। কে কখন প্রেস ব্রিফিং করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণভাবে সরকারের আওতাধীন বিষয়, ফলে চাইলে সিইও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারেন।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এখনও পর্যন্ত ইআরও এবং এইআরও-দের সাসপেন্ড করা হয়নি, কারণ জেলা শাসকের তরফে এমন কোনও চূড়ান্ত রিপোর্ট বা তথ্য এখনও দেওয়া হয়নি, যার ভিত্তিতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
ভোটার তালিকা নিয়ে আশ্বস্ত করে সিইও বলেন, মোট ২৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে একজনের নামও অন্যায়ভাবে বাদ যাবে না। যাঁদের তথ্য সঠিক, তাঁদের নাম কোনওভাবেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না।
এই মুহূর্তে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ করা এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিইও জানান, এখন পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩ জন ভোটারের তথ্য জেলা শাসকের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই যাচাইয়ের মধ্যে ৬০ হাজারের বেশি ভোটারের তথ্য অন্য রাজ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এছাড়াও ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের পুনরায় যাচাই সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি আরও জানান, প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে ইআরও এবং এইআরও-রা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। মোট হিসেব করলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়নি। অন্যদিকে, ১ কোটি ৫১ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার হিয়ারিংয়ে উপস্থিত হননি বলেও জানানো হয়েছে।
সিইও জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি এই বিপুল সংখ্যক যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করা সম্ভব না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের কাছে অতিরিক্ত সময় চাওয়া হতে পারে। জানানো হয়েছে, বিপুল চাপ থাকলেও পুরোপুরি স্বচ্ছতা বজায় রেখেই ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
